শাবানের পনেরোতম রজনী উদযাপনের বিধান – আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায


আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রদান করেছেন পূর্ণাঙ্গ একটি জীবন বিধান। এরশাদ হচ্ছে :

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا-المائدة :3

আজ আমি তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করে দিলাম। পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম আমার নেয়ামত ; তোমাদের জন্য ইসলাম ধর্ম মনোনীত ও পছন্দ করলাম। (সূরা মায়েদা : ৩)

অপর স্থানে এরশাদ হয়েছে :

أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ – الشورى:21

তাদের কি আল্লাহর সমকক্ষ শরিক-দেবতা আছে, যারা তাদের জন্য আল্লাহকে পাশ কাটিয়ে এমন ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি তিনি প্রদান করেননি (সূরা শুরা :২১)

হাদিসে এসেছে :

وفي الصحيحين عن عائشة رضي الله عنها، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال : من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد

আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে আমাদের ধর্মে এমন কিছু আবিষ্কার করল, যা এতে নেই, তা পরিত্যক্ত( বোখারি, মুসলিম) অপর হাদিসে এসেছে :

وفي صحيح مسلم عن جابر رضي الله تعالى عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول في خطبته يوم الجمعة: (أما بعد : فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد (صلى الله عليه وسلم)، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة(

জাবের রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার খুতবায় প্রায় বলতেন: সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব। সর্বোত্তম আদর্শ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ। ধর্মের ভেতর নতুন আবিষ্কার ঘৃণিত ও নিন্দিত। প্রত্যেক বেদআত বিচ্যুতি ও গোমরাহি। (মুসলিম)

আরো অনেক আয়াত, অসংখ্য হাদিস বিদ্যমান, যার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় : এ দ্বীন পরিপূর্ণ, তাতে সংযোজন-বিয়োজনের কোন সুযোগ নেই-সম্ভাবনা নেই। আল্লাহ এ উম্মতের ধর্ম পূর্ণ করে দিয়েছেন, প্রদান করেছেন সমূহ নেয়ামত। দ্বীন সম্পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্তর্ধাম হয়নি। তিনি আল্লাহর প্রণয়নকৃত, মনোনীত সমস্ত আমল ও বিধি-নিষেধের সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। বাণী ও কাজের মাধ্যমে পেশ করেছেন বাস্তব নমুনা। আরো বলেছেন : যে নতুন কোন বাণী বা আমল আবিষ্কার করে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করবে, সংশ্লিষ্ট করবে তার আহকামের সাথে, সে আমল বা বাণী খোদ আবিষ্কারকের উপর নিক্ষিপ্ত হবে যদিও তার নিয়ত ভাল হয়। সাহাবায়ে কেরাম রা. এবং ওলামায়ে ইসলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী যথার্থভাবে উপলব্ধি ও হৃদয়ংগম করেছেন। প্রত্যাখ্যান করেছেন-নিন্দাবাদ জানিয়েছেন নতুন আবিষ্কৃত আমল তথা বেদআতের প্রতি। ইবনে ওদ্দাহ, তরতুশি, ইবনে শামাদের মত যারা সুন্নত, বেদআতের উপর কিতাব প্রণয়ন করেছেন, তারাও বর্ণনা করেছেন এ বিষয়টি স্পষ্ট করে।

মানুষের আবিষ্কৃত একটি বেদআতের উদাহরণ : শাবান মাসের পনেরো তারিখের রাতে মাহফিলের আয়োজন করা, দিনের বেলায় রোজা রাখা। বাস্তবতা হল, এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোন প্রমাণ নেই। তবে, এ রাতের ফজিলতের ব্যাপারে কয়েকটি দুর্বল হাদিসের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা হাদিস নিরীক্ষার বিচারে গ্রহণযোগ্য নয় কোনভাবে। এ রাতে নামাজের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সব কটি হাদিস জাল, বানোয়াট। নিম্নে বিষয়টি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার প্রয়াস পাব।

শাম দেশের একদল আলেম শাবানের পনেরো তারিখের রাতের ফজিলত এবং এতে মাহফিলের আয়োজন করা, এবাদত করা ও পরদিন রোজা রাখার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে, অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের অভিমত : এ রাতে মাহফিল আয়োজন বেদআত। এ রাতের ফজিলতের ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসগুলো খুবই দুর্বল ; তার মাঝে কিছু বানোয়াট ও জাল। এ প্রসঙ্গে হাফেজ ইবনে রজব লাতায়েফুল মাআরেফ কিতাবে, ও আরো অনেকে স্বীয় লিখনিতে বিস্তারিত লিখেছেন। স্মর্তব্য : অকাট্য ও প্রামাণ্য দলিল দ্বারা মূল বিষয়টি প্রামাণ্যতার স্তরে উপনীত হলে, আনুষঙ্গিক বিষয়-বস্তুর জন্য দুর্বল হাদিস বিবেচ্য, গ্রহণীয়। আলোচ্য শাবান মাসের পনেরো তারিখের ফজিলতের ব্যাপারে যেহেতু কোন প্রামাণ্য দলিল নেই, তাই এ রাতের নামাজ, দিনের রোজার ব্যাপারে বর্ণিত দুর্বল হাদিস বিবেচ্য, গ্রহণযোগ্য নয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. এ মূল-নীতি লিপিবদ্ধ করেছেন।

আরেকটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য : সকল ওলামায়ে কেরামের মতানৈক্য ও বিরোধপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয়ে কোরআন হাদিসের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। কোরআন-হাদিস উভয়ের সম্মিলিত, কিংবা তার একটির প্রদানকৃত, সমর্থিত সিদ্ধান্ত-ই পালনীয়, অবশ্য-করণীয়। অন্যথায় পরিত্যাজ্য, পরিত্যক্ত। কোরআন হাদিস বহির্ভূত এবাদত বেদআত, অবৈধ। তার জন্য শ্রম ব্যয় করা, তার প্রতি আহ্বান করা নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে :

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا – النساء : 59

হে ইমানদারগণ ! তোমরা আল্লাহ এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং যারা তোমাদের ভেতর কোরআন-হাদিসের জ্ঞানে জ্ঞানী, তাদের অনুসরণ কর। যদি তোমরা আল্লাহ এবং কেয়ামত-দিবস প্রকৃত অর্থে বিশ্বাস কর, প্রমাণ-স্বরুপ বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো অবশ্যই আল্লাহ এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সিদ্ধান্তের উপর সোপর্দ কর। মঙ্গল এতেই, এটাই সুন্দর মীমাংসা। (নিসা:৫৯)

আরো বলেন :

وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ -الشورى : 10
তোমাদের বিরোধপূর্ণ বিষয়ের সুষ্ঠু মীমাংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার নিকট। (শুরা:১০)

আরো এরশাদ হয়েছে :

قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ -آل عمران : 31

হে নবি, আপনি বলুন : তোমরা যদি আল্লাহকে মহব্বত কর, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদের মহব্বত করবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন। (আলে ইমরান : ৩১)

আরো বলেন :

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا -النساء : 65

না, তোমার প্রভুর শপথ ! তারা ইমানদার নয় যতক্ষণ পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ বিষয়ে তারা আপনাকে মীমাংসাকারী স্থির না করবে। এবং আপনার ফয়সালা কোন ধরনের সংশয় বোধ না করে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে না নিবে, সর্বান্তকরনে ( নিসা:৬৫ )

এ ব্যাপারে আরো হাদিস আছে, যা দ্বারা প্রতীয়মান হয় : বিরোধপূর্ণ বিষয়ে কোরআন-হাদিসের শরণাপন্ন হওয়া অবশ্য কর্তব্য ; এবং সে ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ইমানের পরিচায়ক। ইহজগৎ ও পরজগতের বিবেচনায় এতেই বান্দার মঙ্গল নিহিত।

হাফেজ ইবনে রজব রহ. স্বরচিত কিতাব লাতায়েফুল মাআরেফ-এ বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সুষ্ঠু মীমাংসার আলোচনায় বলেন : শাম দেশের কয়েকজন তাবেয়ী যেমন খালেদ ইবনে মাদান, মাকহুল, লুকমান ইবনে আমের এবং আরো অনেকে শাবানের পনেরো তারিখের রাতকে খুব গুরুত্ব দিতেন, এবং এতে যথাসাধ্য এবাদত করতেন। পরবর্তীতে, তাদের থেকেই মানুষ এ রাতকে সম্মান প্রদর্শন ও গুরুত্বারোপ করা শিখেছে। বলা হয় : এ ব্যাপারে তাদের কাছে কিছু ইসরাইলী বর্ণনা পৌঁছেছে। অর্থাৎ ইহুদি রেওয়ায়েত রয়েছে। … তবে, এ আমল মক্কা-মদিনার অধিকাংশ আলেম প্রত্যাখ্যান করেছেন। যেমন আতা, ইবনে আবি মুলাইকা, আব্দুর রহমান ইবনে জায়েদ ইবনে আসলাম। মদিনার ফেকাহবিদ আলেম সমাজও বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইমাম মালেক, তার অনুসারী এবং অন্যান্য আলেমদের মতও এটি। ইমাম আহমদ রহ. হতে শাবানের পনেরো তারিখ সম্পর্কে কোন অভিমত পাওয়া যায়নি। আলোচনার সমাপ্তিতে ইবনে রজব বলেন : শাবানের পনেরো তারিখে নামাজ পড়া্তইত্যাদির ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার সাহাবাদের নিকট হতে কোন প্রমাণ নেই।


সুতরাং, বলা যায় : যে সমস্ত বিষয় শরিয়তের মানদণ্ডে প্রমাণিত-উন্নীত নয়, তা উদ্ভাবন করা কোন মুসলমানের জন্য বৈধ বা সিদ্ধ হতে পারে না, হোক-না তার সম্পাদন একক বা সম্মিলিতভাবে। প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যভাবে। কারণ, সব-ধরনের আমল-ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিম্নোক্ত বানীর নিষেধ ভুক্ত। এরশাদ হচ্ছে :

من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد

যে এমন আমল সম্পাদন করল, যে আমলের নমুনা আমাদের আমলে নেই, তা পরিত্যক্ত। (মুসলিম)

ইমাম আবু বকর তরতুশি রহ. কিতাবুল হাওয়াদেস ওয়াল বিদা নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন : ইবনে ওদ্দাহ হতে বর্ণিত, জায়েদ ইবনে আসলাম বলেছেন বিদগ্ধ ও গবেষক আলেম, এবং ফেকাহবিদদের কাউকে শাবানের পনেরো তারিখের প্রতি কোন প্রকার ভ্রূক্ষেপ করতে দেখিনি। ভ্রূক্ষেপ করতেন না তারা মাকহুলের হাদিসের প্রতিও। আবু মুলাইকাকে কেউ বলেছে, জিয়াদ আন-নামিরি বলে, শাবান মাসের পনেরো তারিখের সওয়াব লাইলাতুল কদরের সওয়াব-তুল্য। তিনি বলেন, আমি যদি তাকে এ কথা বলতে শুনি, আর আমার হাতে লাঠি থাকে, অবশ্যই তাকে শায়েস্তা করব। জিয়াদ একজন গল্পকার।

শাওকানি রহ. আল-ফাওয়ায়েদ আল-মাজমুআ- তে বলেন, একটি হাদিস আছে : হে আলি, যে ব্যক্তি শাবানের পনেরো তারিখে একশত রাকাত নামাজ পড়ে, প্রত্যেক রাকাতে সূরায়ে ফাতেহা এবং দশবার  সূরায়ে এখলাস, আল্লাহ তার সমস্ত প্রয়োজন পুরো করবেন। … হাদিসটি মওজু, বানোয়াট, জাল ; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর স্পষ্ট অপবাদ। এ হাদিসের সওয়াবের প্রতিশ্রুতির প্রতি দৃষ্টি দিলে যে কোন বিবেকবান বুঝতে পারবে, এটি বানোয়াট। এর বর্ণনাকারীরও পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ হাদিসের আরো বর্ণনার সূত্র পাওয়া যায়, সবগুলো বানোয়াট। বর্ণনাকারীগণ পরিচয়হীন।

মুখতাসার নামক কিতাবে আছে, ইবনে হিব্বানে আলি রা. হতে একটি হাদিস আছে, যখন শাবান মাসের পনেরো তারিখ সমাগত হয়, তোমরা রাতে নামাজ পড়, দিনের বেলায় রোজা রাখ। হাদিসটি দুর্বল।

লাআ-লি নামক কিতাবে আছে, দশবার সূরা এখলাস দিয়ে একশত রাকাত নামাজ পড়ার হাদিসটি বানোয়াট। এর তিনটে সূত্রের অধিকাংশ বর্ণনাকারী অবিশ্বস্ত, দুর্বল, অপরিচিত। তদ্রুপ ত্রিশবার সূরায়ে এখলাস দিয়ে বার রাকাত কিংবা চৌদ্দ রাকাত নামাজ পড়ার হাদিসও বানোয়াট।

পরিতাপের বিষয়, এ সমস্ত হাদিসের কারণে ফুকাহায়ে কেরামের একটি দল ধোঁকায় পতিত হয়েছেন ; যেমন, ইমাম গাজ্জালি। তদ্রুপ মুফাসসিরিনদের এক দলও। এ রাতে নামাজের যে বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে, সবগুলোই পরিত্যাজ্য।

হাফেজ ইরাকি রহ. বলেন, শাবান মাসের পনেরো তারিখে নামাজের ব্যাপারে বর্ণিত হাদিস বানোয়াট, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর মিথ্যারোপ।

ইমাম নববী রহ. মাজমুউ কিতাবে বলেন, রাগায়েব নামক সালাত অর্থাৎ রজবের প্রথম জুমায় মাগরিব এবং এশার মধ্যবর্তী সময়ে বার রাকাত নামাজ এবং শাবানের পনেরো তারিখে একশত রাকাত নামাজ, মূলত বেদআত, নিন্দনীয়, পরিত্যাজ্য। কুতুল কুলুব তদ্রুপ এহইয়া উলুমুদ্দিন-এ নামাজ দুটির উল্লেখ এবং এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদিস দেখে কারো ধোঁকায় পড়া ঠিক হবে না। কারণ, সবগুলো-ই ভিত্তিহীন, অমূলক। এ ব্যাপারে যদি কেউ দু’চার পৃষ্ঠা লিখে থাকে, তা দেখেও বিভ্রান্ত হওয়া চলবে না। কারণ, এগুলো তাদের বিচ্যুতি।

শায়েখ আবু মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান ইসমাইল মাকদিসি এ দুই নামাজের অসারতা প্রমাণ করে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রামাণ্য একটি কিতাব রচনা করেছেন। তাছাড়া, এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন আলেমদের বাণী ও উক্তির ব্যাপারে অবগত, যার উল্লেখ কলেবর অনেক বাড়িয়ে দেবে। আশা রাখি, অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তির জন্য এটুকুই যথেষ্ট। কোরআনের উপরোক্ত আয়াত, হাদিস এবং আলেমদের বাণী আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, শাবান মাসের পনেরো তারিখ নামাজ ইত্যাদির মাধ্যমে উদ্‌যাপন কিংবা অন্য কিছুর আয়োজন, বিশেষ করে এ দিনে রোজা রাখা অধিকাংশ আলেমদের নিকট বেদআত ও গর্হিত কাজ। এ ব্যাপারে ইসলামি শরিয়তে কোন ভিত্তি নেই। বাস্তববাদীদের জন্য কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত-ই যথেষ্ট। এরশাদ হচ্ছে :

لْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ – المائدة : 3﴾

আজ আমি তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করে দিলাম। মায়েদা : ৩

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد. وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: -لا تخصوا ليلة الجمعة بقيام من بين الليالي، ولا تخصوا يومها بالصيام من بين الأيام، إلا أن يكون في صوم يصومه أحدكم.

যে আমাদের ধর্মে নতুন কিছু আবিষ্কার করল, যা ইতিপূর্বে বিদ্যমান ছিল না, তা পরিত্যক্ত। আবু হুরায়রা রা. হতে মুসলিম শরিফে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : তোমরা অন্যান্য রাত বাদ দিয়ে বিশেষ করে জুমার রাতকে এবাদতের জন্য নির্দিষ্ট কর না। আবার অন্যান্য দিন বাদ দিয়ে বিশেষ করে এ দিন রোজা রেখ না। তবে, কারো যদি রোজা রাখার পরম্পরায় এ দিন চলে আসে, তবে আপত্তি নেই।

যদি কোন রাতকে এবাদতের জন্য বিশিষ্ট করা বৈধ হত, জুমার দিবসই ছিল শ্রেয়তর। কারণ, বিশুদ্ধ সনদে প্রাপ্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, জুমার দিবস, দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিবস। যখন এ রাতকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবাদতের জন্য বিশিষ্ট করতে নিষেধ করেছেন, অন্য রাতের প্রশ্নই উঠে না। তবে, সহি ও বিশুদ্ধ দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে ভিন্ন কথা।

যেহেতু কদরের রাত এবং রমজানের রাতে এবাদতের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ, নামাজ পড়া শরিয়ত সিদ্ধ ও যথার্থ, সেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় উম্মতকে এ জন্য উৎসাহিত করেছেন, প্রেরণা দিয়েছেন। নিজেও সাধ্য-মত এবাদত করেছেন। বোখারি, মুসলিমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন :

ففي الصحيحين عن النبي صلى الله وسلم أنه قال : من قام رمضان إيمانا وإحتسابا غفرالله  له ما تقدم من ذنبه)، (ومن قام ليلة القدر إيمانا واحتسابا غفر الله له ما تقدم من ذنبه
যে ব্যক্তি রমজান মাসে ইমান ও সওয়াবের নিয়তে নামাজ পড়বে, আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। তিনি আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ইমান ও সওয়াবের নিয়তে নামাজ পড়বে আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন।

যদি শাবানের পনেরো তারিখ রাত, রজব মাসের প্রথম জুমার রাত অথবা ইসরা ও মেরাজের রাতে কোন মাহফিল কিংবা সাধারণ নিয়মের বহির্ভূত কোন এবাদত করা বৈধ হত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে অবগত করে যেতেন, অথবা নিজে সম্পাদন রতেন। আর তিনি এর কিছু সম্পাদন করলে, অবশ্যই সাহাবায়ে কেরাম আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন, গোপন রাখতেন না। তারাই সর্বোত্তম উম্মত, মানব জাতির প্রতি সীমাহীন হিতাকাঙ্ক্ষী।

আমাদের কাছে স্পষ্ট : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে কিংবা তার সাহাবায়ে কেরাম হতে রজবের প্রথম জুমার রাত এবং শাবানের পনেরো তারিখের রাতের ফজিলতের ব্যাপারে কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং, এ রাত উদযাপন ইসলামে এক নতুন আবিষ্কার। তদ্রুপ, এ রাতকে কোন এবাদতের জন্য বিশিষ্ট করা বেদআত। অনুরূপ, রজবের সাতাশ তারিখের রাত কতিপয় মানুষের ধারণা, এ রাতে ইসরা ও মেরাজ হয়েছে এবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা জায়েয নয়। এটি করা যেত, যদি ইসরা ও মেরাজের তারিখ নিশ্চিতরূপে জানা যেত। ওলামাদের সঠিক সিদ্ধান্ত হল এ রাতটি নিরূপিত হওয়ার ব্যাপারে সঠিক প্রমাণ মিলেনা। আর যারা বলে, সাতাশ তারিখ ইসরা ও মেরাজের রাত, তাদের কথা অমূলক, ভিত্তিহীন। সহিহ হাদিসে এর কোন সমর্থনও পাওয়া যায় না। কবি বলেন :

وخير الأمور السالفات على الهدى ***وشر الأمور المحدثات البدائع

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শানুযায়ী সম্পাদিত কর্মই সর্বোত্তম কর্ম। নতুন উদ্ভাবিত, আবিষ্কৃত কর্মই সবচে’ নিন্দিত।

আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে সুন্নতকে আঁকড়ে ধরে তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তওফিক দান করুন। তওফিক দান করুন এর বিপরীত সব কিছু হতে নিরাপদ থাকার।

আমিন।

Share

Advertisements

4 comments on “শাবানের পনেরোতম রজনী উদযাপনের বিধান – আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায

    • As salamu Alaykum

      Unfortunately, we are living in such an environment where it is very difficult to differentiate between actual worship and innovated worship. One thing, I can say is what we are doing it does not necessarily claim that it is an act of worship, but to be an act of worship it must be in accordance with Quran and Sunnah. This article emphasis on this point. For example, you will find grave worshipers who makes sujud in the grave throughout the country, can you claim such an abominable act as an act of worship/ibadah?

      You can go through this article [http://bit.ly/9mP02i] to get a clear understanding of Bida’h.

      Jazak Allah Khair

      Like

  1. Source: http://abdurrahmanorg.wordpress.com/2009/08/04/get-your-sins-forgiven-on-the-15th-of-shaaban/

    أَبِى مُوسَى الأَشْعَرِىِّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِى لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلاَّ لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ

    Abu Musa Al-Ashar’ee (may Allah be pleased with him) narrated that Allah’s messenger (peace and blessings be upon him) said, “Verily Allah looks at His creation on the 15th of Sha’ban and forgives everyone except a person who commits shirk and a person feels rancor towards his brother

    Collect by Ibn Majah (1390) Ibn Abee Asim (510) and others .Graded as being Saheeh by Shaykh Al-Albani

    Ibn Rajab (may Allah have mercy on him) commented on this topic saying, “ My brothers you must avoid the sins that prevent the servant from receiving Allah’s forgiveness during the fixed dates of Allah’s mercy and pardon. They are as follow;

    Shirk- Allah says,”

    مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ

    “Whoever associates (others) with Allah, then Allah has forbidden to him the garden, and his abode is the fire; and there shall be no helpers for the unjust.[Al-Ma’idah 72]

    Murder – If everyone in the Heavens and Earth gathered together and killed a Muslim unjustly Allah would throw them all in Hell.

    Zina- Beware, think twice from being exposed to the Almighty’s wrath. The entire creation is Allah’s servants and slaves. Allah vies to protect them and there isn’t anyone who vies for this protection more than Allah. Allah doesn’t want His male and female slaves to commit zina. Therefore He has prohibited fornication and adultery and ordered His servants to lower their gaze.

    Shahnaa’- This is when a person harbors ill will against his brother and wants to harm him. Allah says, “

    وَلاَ تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ ۚ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَا

    “ And do not think Allah to be heedless of what the unjust do; He only respites them to a day on which the eyes shall be fixedly open,” [ Ibrahim 42 ]

    This is should spare you the harm, knowing these acts prevent forgiveness during the times of pardon for sin.”

    TN – Inshallah the 15th will Thursday August 6.

    Taken from Lataif al Maa’rif by Ibn Rajab Al-Hanbali (may Allah have mercy on him). Pages 249-250 printed by Maktabatul Islameeyah in 1428 H

    Translated by Abu Aaliyah Abdullah ibn Dwight Battle

    Doha, Qatar 1430 H © 12/8/1430

    http://abuaaliyah.multiply.com/journal/item/84

    —-

    don’t confuse this virtue with the below innovations that people are involved in:

    As a a note of clarification this article does not anywhere endorse “celebrating” or “singling out” as a specific day wherein one should fast or preform extra nawafil prayers ect as to do this is considered innovation .

    The article simply relays an authentic hadeeth concerning the virtue of the 15th of Shabaan with the checking by Shaykh al Albaanee.

    Clarification from http://abuaaliyah.multiply.com/

    There isn’t anything there about celebrate. We want the people to avoid shirk, and rancor and the other acts which hinder Allah’s forgiveness. Where do you get celebrate from an authentic hadeeth? An authentic hadeeth which simply states Allah’s forgiveness is earned for All except 2. Shaykh Al-Albani mentions this hadeeth in his Silsilahtus Saheehah. (may Allah rest him in Jannah)

    He was among the strongest against Bid’ah. Nevertheless the hadeeth is authentic to him and he recorded it in that book.

    This day has virtue, however to single it out for fasting, praying, etc are considered acts of innovation. There were some Tabee’en in Sham who used to single this day out for certain acts of worship. People like Khalid ibn Ma’dan, Makhoul, Luqman ibn Amr and others. They only did these acts of worship due to the narrations that reached them from the Israilites.

    When this happened some people accpeted those narrations and acted accordingly to those narrations. But the majority of the Ulema in Hijaz and elsewhere rejected these actions during that time.This was reported from Abdur Rahman ibn Zayd ibn Aslam.

    The students of Imam Malik in Madeenah at that time said ,” All of these acts are Bid’ah ”

    At any rate I accept his grading of this hadeeth and the comments from Ibn Rajab (may Allah have mercy on them). Both are Imams of Ahulus Sunnah.

    Like

    • খুশি হলাম, কিন্তু শবেবরাতের পক্ষে অনেক হাদিস দেখায় তা কিভাবে ভুল বা দুর্বল প্রমান করব। যেমন আমি কিছু যুক্তি সংগ্রহ করেছি।

      আমরা নবী এবং তার সাহাবীগন এর সমগ্র খাঁটি Seerah এর মধ্যে শবেবরাতের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাই না। আল্লামা ইবনে Rajab আবু বকর তুরতশি, ইবনে Wazzah Qurtubi, সুউতি, Shokani ইত্যাদি এর মতে – এই বিষয় সংক্রান্ত সমস্ত হাদিস দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য।
      সাধারণত 15 শাবান রাতে ইবাদাত সমর্থন করে যে হাদীস উদ্ধৃত করা হয়, Muhaddiseen (হাদিস বিশারদ) অনুযায়ী তা Zaif (দুর্বল) এবং কার্যে পরিণত করা হয় না. যেমন, আয়েশা (R.A.) হতে বর্ণিত, “একদা রাত্রিতে আমি আল্লাহর রসূল (সঃ) না পেয়ে দেখি তিনি একাকি মদীনার বাক্বী গোরস্থানে। সেখানে তিনি একপর্যায়ে আমাকে (আয়েশা R.A.) কে লক্ষ করে বলেনঃ তুমি কি ভয় পাচ্ছ যে আল্লাহ্ এবং তার রাসুল সঃ তোমার সাথে অবিচার করবেন? আমি (আয়েশা) বল্লামঃ আল্লাহর রসূল, আমি ভাবছিলাম যে আপনি হয়ত অন্য বিবিদের কাছে গেছেন। আল্লাহর রসূল (সঃ) বললেনঃ মধ্য শাবানের দিবাগত রাতে আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং ‘কল্ব’ গোত্রের ছাগল সমুহর লোম সংখ্যার চাইতে অধিক সংখ্যক লোককে মাফ করে থাকেন।” (Tirmidhi, Hadith No. 739; Sunan Ibn-I-Majah, Hadith No. 1389; Ahmad Vol. 6, 238)
      ইমাম বুখারী ও Tirmidhi অনুযায়ী, উপরে উল্লিখিত হাদীসে দুটি জায়গায় বর্ণনাকারীর একটি ভাঙা শৃঙ্খল আছে এবং সেহেতু এটি দুর্বল হাদীস। এই হাদিসটিতে হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাত নামক একজন রাবী আছেন। আল্লামাহ ইবনুল আরাবি (543H), তার ভাষ্যে উল্লেখ করেন, হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাত নির্ভরযোগ্য নয়। Sunan -At-Tirmidhi, titled ‘Arizatul-Ahwazi’, Vol 3, Pg No. 216 adds: ‘….further
      যাই হক, এটা প্রমানিত যে নবী সঃ আল্লাহ্র নির্দেশে বাক্বী কবরস্থান পরিদর্শন করেছেন ও আহলে বাক্বীদের জন্য দুয়া করেছেন, কিন্তু সঠিক কোন রাত্রে তিনি এটি করেছেন তার পরিষ্কার কোন প্রমান নেই। নবী সঃ এটা করেছেন আল্লাহ্র নির্দেশে, সুতরাং নবী এই আইনের একটি ব্যতিক্রম ছিল.
      আয়েশা (R.A.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন যে: “জিবরাইল (আঃ) আমার কাছে এসেছিল এবং বললঃ আপনার রব আপনাকে আদেশ করেছেন বাক্বী কবরস্থানে যেতে এবং তাদের জন্য দুয়া চাইতে।”
      সুতরাং আমাদের কবরস্থানে যাওয়া ও মৃত বেক্তির জন্য দুয়া চাওয়ার অনুমতি আছে, কিন্তু এটি করার জন্য বিশেষ ধর্মীও/সদ্গুণ হবেন তা বিবেচনা করে একটি নির্দিষ্ট দিন বা রাত ঠিক করার অনুমতি নেই যদি না আমরা কুরআন বা সাহি হাদিস থেকে এরকম করার পক্ষে কোন প্রমান খুজে পাই।
      আল্লামাহ ইবনুল আরাবি লিখেছেনঃ “১৫ই শাবান সমন্ধে নির্ভরযোগ্য কোন হাদিস নেই। যদিও কিছু মন্তব্যকারীদের দাবি করে, Surah Dukhan, chapter 44, verse 4ঃ ‘এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ফয়সালা হয়।’। কিন্তু এটা সত্য নয়। কারন আল্লাহ শাবান মাসে কোরান নাযিল করেনি। কুরআন নাযিল হয়েছিল রমজান মাসে Surah Baqarah, chapter 2, verse 185 “রোযার মাস (এমন একটি মাস) যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে,”।
      এবার বলি তাক্বদীর বা ভাগ্য সম্পর্কে।
      রসুল সঃ বলেছেন “আসমান সমূহ ও জমীন সৃষ্টির পঞ্ছাশ হাযার বৎসর পূর্বেই আল্লাহ তাআলা স্বীয় মাখলুকাতের ভাগ্য লিখে রেখেছেন” (মুসলিম- ৬৬৯০)।
      আবু হুরায়রাহ (রাঃ) কে রসুল সঃ বলেন “তুমার ভাগ্যে যা আছে তা ঘটবে, এ বিষয়ে কলম শুকিয়ে গেছে” সুতরাং শবেবরাতে ভাগ্য লিপিবদ্ধ হয় বলে যে ধারনা আছে তার কোন ভিত্তি সঠিক নেই বরং লাইলাতুল বরাত বা ভাগ্য রজনী নামটি ই সম্পূর্ণ বানোয়াট, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ইসলামী শরিয়তে এই নামের কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়না।
      এখন আসি গুনা মাফ হওয়ার বিষয়ে
      এজন্য দিনে সিয়াম পালন ও রাতে ঈবাদত করা হয়। অন্তত ১০০ রাকাত সালাত আদায় করতে হয়। প্রতিরাকাতে সূরা ফাতেহা ও ১০বার সূরা এখলাছ পরতে হয়। এই সালাতটি গোসল কোরে আদায় করলে গোসলের প্রতি ফোঁটা পানিতে ৭০০ রাকাত নফল নামাজের ছওয়াব পাওয়া যায় ইত্যাদি।
      এ সম্পর্কে যে ৩টি দলিল পেষ করা হয় তা হল-
      ১। আলী রাঃ হতে বর্ণিত, রাসুল সঃ এরশাদ করেন, “মধ্য শাবান এলে তুমরা রাত্রিতে ইবাদত কর ও দিনে ছিয়াম পালন কর। কেননা আল্লাহ্‌ ওই দিন সূর্যাস্তের পরে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন ও বলেন, আছ কি কেও ক্ষমা পারথনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা কোরে দিব; আছো কি কেও রুযী প্রার্থী, আমি তাকে রুযী দিব। আছো কি কোন রোগী, আমি তাকে আরোগ্য দান করব”।
      এই হাদিসটির সনদে ‘ইবনু আবী সাব্রাহ’ নামে একজন রাবী আছেন, যিনি হাদিস জালকারী। সে কারনে হাদিছে মুহাদ্দিছীনের নিকট ‘যাঈফ’।
      দিতীয়তঃ হাদিসটি সাহিহ হাদিছের বিরোধী হয়ায় অগ্রহণযোগ্য। কেননা এই মরমে প্রসিধ্ব্য ‘হাদীসে নুযূল’ ইবনু মাজাহার ৯৮ পৃষ্ঠায় মা আয়েশা (রাঃ) হতে (হা/১৩৬৬) এবং বুখারী শরীফের (মীরাট ছাপা ১৩২৮ হিঃ) ১৫৩, ৯৩৬, ১১৬ পৃষ্ঠায় এবং ‘কুতুবে সিত্তাহ’ সহ অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে সর্বমোট ৩০জন সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। সেখানে মধ্য শাবান না বলে ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ’ বলা হয়েছে। অতএব ছাহিহ হাদিছের বরাাাা অনুযায়ী আল্লাহপাক প্রতি রাতের তৃতীয় প্রহরে অবতরন করে বান্দাকে ফজরের সময় পর্যন্ত উপরোক্ত আহবান করে থাকেন; শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ভাবে মধ্য শাবানের একটি রাত্রে নয়।
      ২। মা আয়েশা রাঃ হতে বর্ণিত, “একদা রাত্রিতে আমি আল্লাহর রসূল (সঃ) না পেয়ে দেখি তিনি একাকি মদীনার বাক্বী গোরস্থানে। সেখানে তিনি একপর্যায়ে আমাকে (আয়েশা R.A.) কে লক্ষ করে বলেনঃ তুমি কি ভয় পাচ্ছ যে আল্লাহ্ এবং তার রাসুল সঃ তোমার সাথে অবিচার করবেন? আমি (আয়েশা) বল্লামঃ আল্লাহর রসূল, আমি ভাবছিলাম যে আপনি হয়ত অন্য বিবিদের কাছে গেছেন। আল্লাহর রসূল (সঃ) বললেনঃ মধ্য শাবানের দিবাগত রাতে আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং ‘কল্ব’ গোত্রের ছাগল সমুহর লোম সংখ্যার চাইতে অধিক সংখ্যক লোককে মাফ করে থাকেন।” (Tirmidhi, Hadith No. 739; Sunan Ibn-I-Majah, Hadith No. 1389; Ahmad Vol. 6, 238)
      ইমাম বুখারী ও Tirmidhi অনুযায়ী, উপরে উল্লিখিত হাদীসে দুটি জায়গায় বর্ণনাকারীর একটি ভাঙা শৃঙ্খল আছে এবং সেহেতু এটি দুর্বল হাদীস। এই হাদিসটিতে হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাত নামক একজন রাবী আছেন। আল্লামাহ ইবনুল আরাবি (543H), তার ভাষ্যে উল্লেখ করেন, হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাত নির্ভরযোগ্য নয়। Sunan -At-Tirmidhi, titled ‘Arizatul-Ahwazi’, Vol 3, Pg No. 216 adds: ‘….further
      ৩। ইমরান বিন হুছাইন (রাঃ) বলেন যে, “একদা রাসুল সঃ জনৈক বেক্তিকে বললেন বললেন যে, তুমি কি ‘সিরারে শাবানের’ ছিয়াম রেখেছ? লোকটি বলল ‘না’। আল্লাহর নবী সঃ তাকে রমযানের পরে ছিয়াম দুটির কাজা করতে বললেন”।
      জমহুর বিদ্বানগনের মতে ‘সিরার’ অর্থ মাসের শেষ। উক্ত বেক্তি শাবানের শেষ অবধি ছিয়াম পালনে অভ্যস্ত ছিলেন অথবা ওটা তার মানতের ছিয়াম ছিল। রমযানের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ভয়ে তিনি শাবানের শেষের ছিয়াম দুটি বাদ দেন। সেকারণে রসুল সঃ তাকে ওই ছিয়ামের ক্বাযা আদায় করতে বলেন।
      বোঝা গেলো এই হাদিসটির সঙ্গে প্রচলিত শবেবরাতের কোন সম্পর্ক নেই।
      শবেবরাতের সালাতঃ
      এই রাত্রির ১০০ রাকআত ছালাত সম্পর্কে যে হাদিস আছে তা ‘মওজূ’ বা জাল। এই ছালাত ৪৪৮ হিজরীতে সর্বপ্রথম বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদে আবিষ্কৃত হয়। যেমন মিশকাতুল মাছাবীহ – এর খ্যাতনামা আরবী ভাষ্যকার মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী (মৃঃ ১০২৪ হিঃ) ‘আল-লাআলী’ কিতাবের বরাতে বলেন, জুমা ও ঈদায়নের ছালাতের চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে ‘ছালাতে আলফিয়াহ’ নামে এই রাতে যে ছালাত আদায় করা হয়, এবং এর সপক্ষে যেসব হাদিস ও আছার বলা হয় তার সবই বানোয়াট ও মউযু অথবা যাইফ। এই বিদআত ৪৪৮ হিজরিতে সর্বপ্রথম জেরুজালেমের বায়তুল মুক্বাদ্দাস মসজিদে প্রবরতিত হয়।
      মসজিদের মূর্খ ইমামগন অন্যান্য ছালাতের সাথে যুক্ত করে এই ছালাত চালু করেন। এর মাধ্যমে তারা জনসাধারনকে একত্রিত করার এবং মাতব্বরি ও পেট পূর্তি করার ফন্দি এঁটেছিল মাত্র। এই বিদআতি ছালাতের জনপ্রিয়তা দেখে নেক্বার- পরহেজগার বান্দাগন আল্লাহর গজবে জমিন ধসে জাওয়ার ভয়ে শহর ছেরে জঙ্গলে গিয়ে পালিয়েছিলেন’।
      এইরাতে মসজিদে গিয়ে একাকী বা জামাতবদ্ধ ছালাত আদায় করা, যিকর করা সম্পর্কে জানা যায়, শ্যামের কিছু বিদ্যান এটা প্রথম শুরু করেন। তারা এই রাতে সুন্দর জামা পরে, আতর-সুরমা লাগিয়ে মসজিদে গিয়ে রাত্রি জাগরন করতেন। পরে বিষয়টি লকদের মধ্যে ছড়িয়ে পরে। মক্ক্বা-মদীনার আলেমগন এর তীব্র বিরোধিতা করেন।
      সবমিলিয়ে বলা যায় শবেবরাত একটি নতুন বিষয় যা রসুল সঃ ও সাহাবীদের দ্বারা পালন করার অকাট্য প্রমান নেই।

      Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s