গ্যালারি

কুরআনে বর্ণিত কাহিনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ : কুরআনের কাছে ফিরে আসা

কুরআনে বহুস্থানে অতীতের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এই কাহিনীগুলোর ভিতর খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও উপদেশ বিদ্যমান। এই কাহিনীগুলো একবারে বর্ণিত হয়নি (সূরা ইউসুফ ব্যতীত), তাই একথা সুস্পষ্ট যে ইতিহাস বর্ণনা আল্লাহর উদ্দেশ্য নয় বরং এই কাহিনীগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের দিক নির্দেশনা দিতে চান। সূরা ইউসুফের সমাপ্তিতে আল্লাহ বলেছেন,

তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়” (সূরা ইউসুফ, ১২:১১১)

কুরআনের কাহিনীগুলো অপ্রাসঙ্গিক ডালপালা বিবর্জিত। কিছু লোককে তাই যেসব তথ্য বর্ণনা করা হয়নি তার পিছনে ছুটতে দেখা যায় (যেমন আসহাবে কাহাফের কুকুরের নাম ও গায়ের রঙ কি ছিল)। আমাদের মনে রাখা উচিত কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। কুরআনের কাহিনীগুলোর থেকে আমরা যেসব শিক্ষা পাই তা হচ্ছে – কিভাবে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে হয় (conduct/manner) এবং কোন বিষয়গুলোকে শুরুতেই দৃষ্টিগোচর করা উচিত। কাহিনীগুলো থেকে এটা পরিষ্কার দেখা যায় সকল নবী রাসূলদের মূল কথা একটাই ছিল এবং তা হল – তাওহীদ। কুরআনের ভাষ্যমতে

আপনার পূর্বে আমি যে রসূলই প্রেরণ করেছি, তাকে আদেশই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই সুতরাং আমারই ইবাদত কর” (সূরা আমবিয়া, ২১:২৫)

এই সকল কাহিনী থেকে আরও জানা যায় মানবজাতির প্রকৃত ধর্ম চিরকাল একই ছিল। ধর্মের মধ্যে বিবর্তন (evolution) ঘটেছে এমনটি নয় (যেমনটি সমাজবিজ্ঞানীদের অনেকে ধারণা করে থাকে), মানুষ শুরুতে শিরকপুর্ণ বিশ্বাসব্যবস্থায় থেকে সময়ের পরিবর্তনের সাথে তাওহীদের আকীদায় উপস্থিত হয়নি। বরং পৃথিবীর শুরু থেকেই তাওহীদের চর্চা চালু ছিল। মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উম্মাহর আগেও বহু জাতি বিগত শতাব্দীগুলোতে তাওহীদের অনুসরন করে আল্লাহর পথে টিকে থাকার সংগ্রাম করেছে।

তৃতীয়ত, এই কাহিনীগুলো ছিল রাসূলূল্লাহর (সা) জন্য হতাশার মাঝে আশার টুকরো মেঘ। নবীদের কাহিনীতে আমরা দেখতে পাই তাদের জাতি কিভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু এর মাঝেও নবী রাসূলরা ধৈর্য ধরে এসব কষ্টের সময় অতিক্রম করেছেন। ফলশ্রুতিতে আল্লাহ নবী রাসূলদের সাহায্য করেছেন। এভাবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে:

আর আমি রাসূলগণের সব বৃত্তান্তই তোমাকে বলছি, যা দিয়ে তোমার ন্তর মজবুত করছি আর এভাবে তোমার নিকট মহাসত্য এবং ঈমানদারদের জন্য নসীহত স্মরণীয় বিষয়বস্তু এসেছে” (সূরা হুদ, ১১:১২০)

চতুর্থত, কুরআনের কাহিনী থেকে দেখা যায় আল্লাহ তাঁর একনিষ্ঠ বান্দাদের কতোইনা দয়া করেছেন। তাই একজন পাঠকের বুঝা উচিত সে যদি আল্লাহর পথে কাজ করে তবে আরশের অধিপতি তার কর্মকে ব্যর্থ করে দেবেননা। এটা আল্লাহরই এক প্রতিশ্রুতি:

হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা ল্লাহকে সাহায্য কর, ল্লা তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদমকে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত করবেন” (সূরা মুহাম্মদ, ৪৭:৭)

পঞ্চমত, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। কুরআনের কাহিনীগুলোতে আল্লাহর শক্তি কত বেশি তা আন্দাজ করা যায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলেই মুজিযা ঘটাতে পারেন। যা কিছু আমাদের কাছে অলৌকিক, ব্যাখ্যার অতীত, তা আল্লাহর কাছে সামান্য ব্যাপার। মূসা (আ), ঈসা (আ) এর মুজিযা পড়ে বিস্মিত হওয়ার পাশাপাশি এটাও বুঝতে হবে আল্লাহ ছাড়া তাদের কোন ক্ষমতাই ছিলনা।

ষষ্ঠত, বিভিন্ন নবী রাসূল তাদের জাতিকে বিভিন্ন পদস্খলন থেকে বাচাঁতে চেষ্টা করেছেন। যেমন শুয়াইব (আ) এর জাতি ব্যবসায় দুর্নীতির আশ্রয় নিত, লুত (আ) এর জাতি সমকামিতা শুরু করেছিল। তাদের কাহিনী থেকে আমরা জানতে পারি সমাজ থেকে এসব মন্দ দূর করার ক্ষেত্রে আমাদের কি করণীয়।

সপ্তমত, এই কাহিনীগুলোর নির্ভুলতা যাচাই করার পর বুঝা যায় মুহাম্মদ (সা) আসলেই আল্লাহর নবী, কেননা তাঁর মত নিরক্ষর, শিক্ষক বঞ্চিত একজন মানুষের কাছ থেকে অতীতের ইতিহাসের বর্ণনা অলৌকিক ব্যাপার। তিনি এমন কাহিনীও বর্ণনা করেছেন যা ইহুদি পন্ডিতরা ছাড়া কেউ অবহিত ছিলনা। আল্লাহও তাই নূহ (আ) এর কাহিনী বর্ণনা করার পর নবীকে (সা) বলছেন,

এটি গায়েবের খবর, আমি আপনার প্রতি অহী প্রেরণ করছি ইতিপূর্বে এটা আপনার এবং আপনার জাতির জানা ছিলনা আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যারা ভয় করে চলে, নিঃসন্দেহে তাদের পরিণাম ভাল” (সূরা হুদ, ১১:৪৯)

কুরআনের কাহিনী থেকে আরও জানা যায় ইহুদি, খ্রীস্টানরা তাদের ধর্মগ্রন্থে কি পরিমাণ বিকৃতি সাধন করেছে। তারা নবীদের চরিত্র কালিমালিপ্ত করে ছেড়েছে, তাওহীদের বাণীকে অস্পষ্ট করেছে। কুরআন নবীদের মহান চরিত্র, তাদের অধ্যাবসায়ের স্বীকৃতি দেয়; নবীদের জন্য আমাদের মনে ভক্তি জাগায়।

আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ

Advertisements

One comment on “কুরআনে বর্ণিত কাহিনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ : কুরআনের কাছে ফিরে আসা

  1. পিংব্যাকঃ আমরা কিভাবে কুরআন বুঝব?-২ | In Search of Inner Peace | ইসলামিক বাংলা ব্লগ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s