গ্যালারি

এ সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই!

পর্ব ১: ইসলাম : একটি ধারণা !
পর্ব ২ : সংঘাত অথবা সংঘাত নয়?
পর্ব ৩ : মৌলবাদীদের অদ্ভুত ব্যাপার

শেখ আবদুর রহিম গ্রীন

তাহলে কি সেই প্রমাণ যা ইসলাম দৃঢ় প্রত্যয় উৎপাদনকারী হিসাবে উপস্থাপন করে? প্রথম বিচার্য বিষয় হচ্ছে বিশুদ্ধতা। পাঠ্যাংশের বিশুদ্ধতা সমগ্র “ভাণ্ডারের” মমার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ একবার যদি কোন পাঠ্যাংশ কোন তাত্ত্বিক বা রাজনৈতিক যুক্তিযুক্ততা সিদ্ধ করার জন্য বিকৃত বা পরিবর্তিত করা হয়, এবং যদি বিকৃতি থেকে বিশুদ্ধকে পৃথক করার কোন নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি না থাকে, তাহলে পাঠ্যাংশে এমন কোন অনুচ্ছেদ পাওয়া যাবে না যা প্রশ্নাতীত। বিশুদ্ধ ও সংরক্ষিত বিষয়বস’র ক্ষেত্রে এটা ততটা সহজ নয়। খৃষ্টান মৌলবাদীরা এটা ভালই জানে। যদি এটা “আল্লাহর বাণী” না হয়, তবে পথ নির্দেশনা হিসাবে এর কোন মূল্য আছে জ্ঞানের সংকলন হওয়া ব্যতীত? খুব কমসংখ্যক সত্যিকার পণ্ডিত লোকই, এমনকি ইসলামের প্রতিপক্ষের মধ্যে থেকেও, কুরআনের ঐতিহাসিক বিশুদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক করার প্রয়াস পেয়েছেন। আসলে এটা একটা অর্থহীন পণ্ডশ্রম ছাড়া আর কিছুই হবে না, কারণ যে কেউ প্রাক্তন সোভিয়েট ইউনিয়নের তাশখন্দে ভ্রমণ করতে প্রস্তুত থাকবে, সেখানে নবী (সঃ) এঁর সাহাবী কুরআনের লেখক জায়েদ ইবনে সাবিত এর স্বহস্তে লিখিত কুরআনের সম্পূর্ণ কপি দেখতে পাবে, যা নবী (সঃ) এঁর মৃত্যুর দুবছরের মধ্যে প্রথম খলিফা আবু বকরের আদেশে লেখা হয়েছিল। তাশখন্দের পাণ্ডুলিপিটি জায়েদের লেখা প্রথম পাণ্ডুলিপির নকল, যা জায়েদেরই নিজের হাতে করা, কিন্তু সেটি তৃতীয় খলিফা ওসমান বিন আফফান এর আদেশে বার বছর পরে করা হয়। যার উপর পঞ্চাশের অধিক সাহাবার ঐকমত্য হয়েছিল, যাঁরা নিজেরা কুরআনের অংশবিশেষের লেখক ছিলেন এবং আরও অনেকের, যাঁরা স্মৃতিতে কুরআন ধরে রেখেছিলেন। এই “উসমানীয় কুরআন”, এই নামেই যা পরবর্তীতে পরিচিতি লাভ করেছিল, তখন জীবিত নবী (সঃ) এর সব সাহাবার দ্বারা গৃহীত হয়েছিল কোন ব্যতিক্রম ছাড়া, সেই এক ও অভিন্ন কুরআন হিসাবে যা আল্লাহর চূড়ান্ত রাসূল মুহাম্মাদ (সঃ) এঁর উপর আল্লাহ অবতীর্ণ করেছিলেন। যে কেউ কুরআনের যে কোন কপি পৃথিবীর যে কোনখানের কোন মসজিদ থেকে নিতে পারেন এবং জায়েদের মুসহাফের সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন, তিনি দুটিকে অভিন্ন দেখতে পাবেন অক্ষরে অক্ষরে। যে উচ্চারণে নবী (সঃ) কুরআন তিলাওয়াত করতেন, আজ পর্যন্তও সেই একই উচ্চারণে কুরআন তিলাওয়াত হয়। অধিকন্তু কুরআনের ভাষা, আরবী হচ্ছে একটি জীবন্ত ভাষা, এবং এই কিতাব সবসময়েই জনসাধারণের হাতের নাগালেই ছিল-শুধুমাত্র কতিপয় ধর্মযাজকের অন্দরমহলে নয়।

সুতরাং যে কেউ কুরআন পাঠ করবে সে যুক্তিগ্রাহ্য সন্দেহের সীমার বাইরে নিশ্চিত বোধ করতে পারে যে তারা সেই একই শব্দাবলী পাঠ করছে যা মুহাম্মাদ (সঃ) এঁর কাছে চৌদ্দশত বছর আগে অবতীর্ণ হয়েছিল।

“নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণ করব।” (সূরা আল হিজর, ১৫:৯)

এই বক্তব্যের ফলাফল লাভের বাস্তবতা মানবজাতির প্রতি একটি স্পষ্ট প্রমাণ, এবং কুরআনের স্পষ্ট প্রকাশিত অলৌকিক ঘটনাবলীর অন্যতম। এ ছাড়াও এই সংরক্ষণ শুধু কুরআনের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, তা এর ব্যাখ্যার জন্যও যাকে সুন্নাহ বলা হয় অর্থাৎ নবী (সঃ) এঁর কথা, কাজনীরব সম্মতি। এ সবই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খুঁটিনাটিসহ তাঁর স্ত্রীগণ ও সাহাবাগণ মুখস্থ করে ও লিখে রেখেছেন এবং শিক্ষা দিয়েছেন যা হিজরী দুই থেকে তিনশত সনে হাদীসের বিখ্যাত পুস্তকসমূহে সংগৃহীত হয়েছে। হাদীস সাহিত্যের সম্ভার বলা যায় বেশ অন্যায্যভাবেই কুরআনের বিশুদ্ধতার সাধারণ গ্রহণযোগ্যতার মত অনুরূপ গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এটা শুধুমাত্র এজন্য যে, যে উপায়ে হাদীস সংরক্ষিত হয়েছে তা ছিল কুরআনের চেয়ে দীর্ঘতর ও জটিলতর, এবং সেজন্যই তা ইসলামের শত্রুদের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। কিছু প্রাচ্যবিদ এ দাবীও করেছেন যে হাদীসের বিশুদ্ধতার হার বাইবেলের পাঠ্যাংশের মতই। আপাতঃ সাদৃশ্য থাকলেও এটা খুবই ভাসাভাসা তুলনা। উদাহরণ স্বরূপ হাদীসের প্রধান পুস্তকসমূহ যেমন সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম এবং সুনানে আবু দাউদ হিজরী দুইশত সাল পার হওয়ার ঠিক আগে পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। যারা এগুলিকে সংকলন করেছিলেন তারা নিজেরা কেউ চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলেন না। হাদীস সাহিত্যের সমগ্র ভাণ্ডারে বহু হাদীস পরিষ্কারভাবে জাল করা হয়েছে এবং সন্দেহযুক্ত, এবং সামগ্রিকভাবে এতে পরস্পর-বিরোধিতা রয়েছে।

সাধারণভাবে এই বক্তব্যগুলি সত্য, কিন্তু হাদীস সংরক্ষণের বিস্তারিত ইতিহাস অধ্যয়ন করলে তৎক্ষণাত চোখে পড়ে যে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।

  • প্রথমতঃ যেমন আমরা কুরআন সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছি, নবী (সঃ) এঁর ভাষা সংরক্ষিত হয়েছে।
  • দ্বিতীয়তঃ যে সমস্ত প্রধান হাদীস বইয়ের কথা আমরা উল্লেখ করেছি, সেগুলি পূর্বের ও ক্ষুদ্রতর সংকলনসমূহের চেয়ে তেমন নতুন কিছু নয়। এছাড়াও বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মৌখিক বর্ণনা ছিল, কিন্তু নবী (সঃ) এর বাণীর সংগ্রাহকগণ যে কোন বর্ণনাকে নবীর (সঃ) বর্ণনা বলে উপযুক্ত প্রমাণ ব্যতীত নিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন। যে পদ্ধতিতে এই ব্যাপারটি সম্পাদিত হতো তা হচ্ছে ‘ইসনাদ’বা বর্ণনাকারীদের ধারাক্রম। নবী (সঃ) মৃত্যুর পর ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই বিভিন্ন দলের উদ্ভব ঘটেছিল যারা সাহাবাগণ কর্তৃক প্রাপ্ত ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। এসব উপদলগুলি নবী (সঃ) এঁর নামে বিভিন্ন হাদীস তৈরী করে প্রচার করত। ফলে নবী (সঃ) এঁর সাহাবারা কেউ হাদীস বিবৃত করলেই তার কাছে থেকে বর্ণনাকারী সাহাবার নাম জানতে চাইতেন, এভাবে বিবৃতকারীর বক্তব্যের সত্যতা সুনিশ্চিত হতো। সাহাবাদের শিষ্যরা এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে থাকেন, এবং সুরক্ষার জন্য আরও পদক্ষেপ নেওয়া হয় এভাবে যে শুধু বর্ণনাকারী সাহাবার নাম নয়, তার পরবর্তী বর্ণনাকারীর নামও চাওয়া হয়। এসব বর্ণনাকারীর গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য শর্ত আরোপ করা হয়। বিভিন্ন শর্তের উপর বিভিন্ন বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ দ্বিমত পোষণ করেন, কেউ অন্যদের চেয়ে বেশী কড়াকড়ি আরোপ করেন, কিন্তু তিনটি মৌলিক চাহিদার ব্যাপারে সকলেই একমত হন।
  • প্রথমতঃ বর্ণনাকারীকে একজন সৎ মুসলিম হতে হবে।
  • দ্বিতীয়তঃ তারা কোন কিছু ভুলে যান না এমন স্মৃতিশক্তি থাকতে হবে এবং
  • তৃতীয়তঃ তারা কখনো মিথ্যাবাদী হবেন না।

পরবর্তী প্রজন্মের হাদীস প্রচারকরা তাঁদের হাদীসের শিক্ষাদানের সময় উপস্থিত লোকেদের নাম লিখে রাখতেন। কোন হাদীস বর্ণনা ও ব্যাখ্যাদানের সময় উপস্থিত না থাকলে কাউকে সেই হাদীস শিক্ষকের উদ্ধৃতি দিয়ে ঐ হাদীস বর্ণনা করতে অনুমতি দেওয়া হতো না। এভাবেই “রিজাল” শাস্ত্রের উদ্ভব হয় যেখানে হাদীসের সমস্ত বর্ণনাকারীর চরিত্র, স্মৃতিশক্তির বিবরণ, বাসস্থান, সফরসমূহ, শিক্ষক, ছাত্র তাদের সম্পর্কে অন্যান্য পণ্ডিতদের মতামত লিখিত থাকত। এভাবে যত উপায়ে সম্ভব এটা সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয় যাতে হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ কোন হাদীসকে নবী (সঃ) এর সহীহ হাদীস বলে ঘোষণা করলে সেটা তাই হবে, কোন যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ ছাড়া যা তিনি উল্লেখ করেছেন। এই পদ্ধতি যে শুধুমাত্র নবী (সঃ) এঁর বক্তব্য সম্পর্কে ব্যবহার করা হয়েছে তা না, বরং সাহাবাদের এবং আদি যুগের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য সম্পর্কেও ব্যবহৃত হয়েছে। বস্তুত, যেকোন সত্যাশ্রয়ী জ্ঞানী ব্যক্তি এভাবে নবী (সঃ) পর্যন্ত তাঁর শিক্ষকদের ইসনাদ উপস্থাপন করতে পারবেন! বিষয়বস্তুর বর্ণনা ও প্রাসঙ্গিক বিশুদ্ধতা ছাড়াও কুরআন নিজেই এই দাবীর সত্যতার প্রমাণ উপস্থাপন করেছে যে এটা আল্লাহর বাণী । অবশ্যই “প্রমাণ” একটি বড় ব্যাপার বিশেষতঃ যখন এটা আল্লাহর অথবা ধর্মের বেলায় প্রযোজ্য হবে। বিশেষ করে “পশ্চিমা মানসের” পক্ষে, যারা গত দুই হাজার বছর যাবত খৃষ্টবাদের এই ধারণা কবলিত, যে ধর্মকে হতে হবে “রহস্যময়”“উপলব্ধির বাইরে”। আল্লাহ এবং ওহীর ধারণা যে শুধু যুক্তিগ্রাহ্য তাই নয়, প্রমাণেরও যোগ্য, এটা অবিশ্বাসের সাথেই দেখা হয়। আসলে, ব্যাপারটা কি? যদি এটা প্রমাণ করা যায়, তাহলে বিশ্বাসের স্থান কোথায়? এটা এ কারণে যে খৃষ্টান বিশ্বকে শেখানো হয়েছে যে “বিশ্বাস” অর্থ হচ্ছে অবিশ্বাস্যকে প্রমাণ ছাড়া মেনে নেওয়া“ত্রিত্ববাদ” নামক অর্থহীন তত্ত্ব এবং একে ঘিরে ধর্মতাত্ত্বিক প্যাঁচাল এটাই প্রকাশ করছে। খৃষ্টানদের কাছে আশা করা হয় যে তারা বিশ্বাস করবে কালোকে সাদা বলে কিন্তু সেটা কালোই থাকবে, অথবা তাদের ভাষায় যে অদৃশ্য, স্বয়ংসম্পূর্ণ, অপরিবর্তনীয়, সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ সৃষ্টিকর্তা একজন দৃশ্যমান, অভাবগ্রস্ত ও মরণশীল, ত্রুটিপূর্ণ জীবে পরিণত হলেন এবং ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন এবং তারপরও এই মানুষটি অদৃশ্য, স্বয়ংসম্পূর্ণ, অপরিবর্তনীয়, সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞ সৃষ্টিকর্তা-সম্পূর্ণ খোদা এবং সম্পূর্ণ মানুষ। অবশ্যই যার মন আছে সে বুঝবে যে অনিবার্যভাবেই একটি অপরটিকে নিবারণ করে। যা সম্পূর্ণরূপে উপাস্য, তা কখনও একজন মানুষ হতে পারে না বা মানবীয় গুণাবলী ধারণ করতে পারে না, কারণ তা এমন সত্তাকে সত্যিকার উপাস্য হওয়া থেকে খারিজ করে দেবে। আরো বলা যায় যে, যে মানুষের ভিতরে আল্লাহর গুণাবলী থাকে, সে মানুষ থাকবে না। “ব্যাখ্যার অযোগ্য”-কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ত্রিত্ববাদের উদ্ভব ঘটেছে: একজন খোদা তিনটি সত্তা দিয়ে তৈরী, তিনটিই সম্পূর্ণ খোদা, (এবং সেজন্য অভিন্ন, তবুও কোন না কোনভাবে ভিন্ন) কিন্তু তিনটি মিলে খোদা একটিই। অধিকন্তু খৃষ্টানদের বিশ্বাস করতে বলা হয় যে মানুষের মুক্তি এই বিশ্বাসে নিহিত যে খোদা নিজেকে হত্যা করেছেন (বা তাঁর পুত্র, বা একজন নির্দোষ মানুষ, বা একসাথে তিনটিই) পাপের বোঝার মুক্তিপণ হিসাবে-যে পাপ তিনি সমস্ত মানুষের উপর আরোপ করেছেন-আদম ও হাওয়ার নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল খাওয়ার পাপের জন্য! এই তালগোল ব্যাপার নিয়ে যখন কোন খৃষ্টান একঝাঁক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, তখন তার একমাত্র আশ্রয় হচ্ছে একথা যে এগুলি সবই “রহস্যময়”, এবং যদি তুমি জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাও তবে প্রশ্ন করা বন্ধ কর এবং একে একটি বিশ্বাসের বিষয় হিসাবে গ্রহণ কর। তারপরও এটা অবাস্তব মনে হয় যে ন্যায়পরায়ণ সৃষ্টিকর্তা যুক্তি ও বুদ্ধির সর্বক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য এবং উপলব্ধির অযোগ্য ব্যাপার প্রত্যাখ্যান করার জন্য কাউকে শাস্তি দেবেন যেখানে তিনি মানুষকে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছেন, কোন শক্তিশালী প্রমাণ দেখানো ছাড়াই যে তাদের সেটাই করা উচিত।

অপরপক্ষে কুরআন মানবজাতিকে তাদের সচেতনতা ও যুক্তি ব্যবহার না করার জন্য তিরস্কার করেছে, এবং বলেছে যে এটা করার ব্যর্থতা নিজেই তাদের ধ্বংসের একটি কারণ:

“যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি ; তা কত মন্দ প্রত্যাবর্তন স্থল। যখন তারা নিক্ষিপ্ত হবে, তারা লেলিহান জাহান্নাম থেকে উদ্ভূত একটি বিকট শব্দ শুনবে, রোষে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে। যখনই তাতে কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, জাহান্নামের রক্ষীরা তাদের জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের নিকট কি কোন সতর্ককারী আসেনি?’ তারা বলবে, ‘অবশ্যই আমাদের নিকটে সতর্ককারী এসেছিল, আমরা তাদের মিথ্যাবাদী গণ্য করেছিলাম এবং বলেছিলাম, আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেন নি, তোমরা তো মহা-বিভ্রান্তিতে রয়েছো।’ এবং তারা আরো বলবে, ‘যদি আমরা তাদের কথা শুনতাম অথবা বিবেকবুদ্ধি প্রয়োগ করতাম, তাহলে আমরা জাহান্নামবাসী হতাম না।’ ” (সূরা আল-মুলক, ৬৭:৬-৯)

কার্যত ইসলামী ধর্মতত্ত্বে এমন কিছুই নেই যা সুস্থ যুক্তিগ্রাহ্য নয়। সত্যি বলতে কি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা কুরআন সম্পর্কে কখনও কিছু না শুনে যে কারো পক্ষে যে কোনখানে ইসলামের মমার্থ বোঝা সম্ভব। এটা এজন্য যে, যে কেউ আমাদের চারিপাশের পৃথিবী ও মহাবিশ্বের গঠন ও এর মাঝে জড়িত কর্মকৌশল খেয়াল করবে সেই তাৎক্ষণিকভাবে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব উপলব্ধি করবে এবং একথাও যে সমস্ত শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ এই সত্তার অধিকারে, এবং সে কারণে সত্যিকারভাবে একমাত্র তিনিই ইবাদতের যোগ্য, এবং সৃষ্টিকর্তার ইবাদতের জন্য একজনকে তাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার উপর নির্ভর করতে হবে। এটা করার চেষ্টাই হচ্ছে “ইসলাম”, যার অর্থ হচ্ছে “আল্লাহর প্রতি বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য”। এই বিশ্বজনীনতা ও সারল্য ইসলামের ঐশী উৎপত্তির পক্ষে একটি শক্তিশালী যুক্তি। মুসলিমের জন্য বিশ্বাস কখনো প্রমাণ ও যুক্তির অন্ধকারে অন্ধভাবে ঝাঁপ দিয়ে পড়া নয়, বরং চিন্তা, অভিজ্ঞতা, সহজাত প্রবৃত্তি এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ফলাফল হিসাবে নেওয়া পদক্ষেপ। চূড়ান্ত পর্যায়ে এটা একটিমাত্র সত্যকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করা, কিন্তু এটা কোন বিশেষ তত্ত্বে বিজ্ঞানীর বিশ্বাসের চেয়ে বা কোন ডাক্তারের চিকিৎসার কোন কার্যকরী ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির উপর বিশ্বাসের চেয়ে বেশী অন্ধ নয়। আদালতে জুরীর বিচারের সাথে এর তুলনা করা যেতে পারে। আদর্শভাবে যা চাওয়া হয় তা হলো যে, মামলা সম্পর্কে জুরীর সামনে সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থিত করা হয়। যখন সাক্ষ্যপ্রমাণের গুরুত্ব উপসংহারমূলক হয় তখন জুরী তার সিদ্ধান্ত প্রদান করে। এটা বলা তার জন্য যথেষ্ট নয় যে: “বেশ, আমরা সাক্ষ্যপ্রমাণ সত্যিই প্রত্যয় উৎপাদনকারী হিসাবে পাচ্ছি!” শেষ পর্যন্ত তাকে অবশ্যই সিদ্ধান্তে আসতে হবে, “দোষী!” অথবা “নির্দোষী!”, সত্যের উপর ভিত্তি করে। তেমনি ইসলামে সৃষ্টিকর্তা মানুষের সামনে উপসংহারমূলক প্রমাণসমূহ উপস্থাপন করেছেন, যার ভিত্তিতে মানুষকে তাদের বিশ্বাসের ঘোষণা দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

Advertisements

One comment on “এ সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s