গ্যালারি

ইতিহাসের আলোকে রমজান মাস

ড. আবদুল্লাহ হাকিম কুইক

সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি সমগ্র বিশ্বের রব। তিনিই সেই সত্তা, যিনি তাঁর মহান কোরআন শরীফে বর্ণনা করেন—‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ আর আল্লাহর শেষ রাসূল মুহম্মদ ইবন আবদুল্লাহর (সঃ) উপর চিরকালীন কল্যাণ ও শান্তি বর্ষিত হোক।

রমজান একটি পবিত্র মাস। এই মাসে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে সর্বক্ষণ পরীক্ষা করেন এবং মানবজাতিকে আখিরাতের অপরিসীম, অশেষ সুখ লাভের সুযোগ করে দেন। রোযা হলো সম্পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের এবং আল্লাহ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উপায়। আর আল্লাহ সম্পর্কে সচেতনতা বা তাকওয়া হলো শয়তানের পরিকল্পনা ও জাগতিক দুঃখ কষ্ট থেকে আত্মরক্ষার মাধ্যম। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে জানান—

“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সব কিছুর জন্য একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।”

আজকের দিনে রোযা এবং রোযাদার ব্যক্তির কার্যকলাপ সম্পর্কে অনেক মুসলিমেরই ভুল ধারণা বিদ্যমান। দিনের অধিকাংশ সময় তারা শুয়ে থাকে এবং প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় কাটিয়ে দেয়। তারা যদি আল্লাহকে ভয় পায় তবে নামাজের সময় হলে তা আদায় করে, আবার শুয়ে পড়ে। এই অনির্ধারিত ঘুম তাকে অলস, অবসন্ন ও খিটখিটে করে তোলে।

রমজান মাস প্রকৃত পক্ষে অধিক ইবাদতের সময় যখন ঈমানদারদের আল্লাহর রাস্তায় সাধনা ও সংগ্রাম করার জন্য আরও উৎসাহী হওয়া উচিত, কেননা তখন তারা নিয়মিত পানাহারের ব্যস্ততা থেকে মুক্ত থাকে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) হিজরতের পর প্রায় নয়টি রমজান মাস পেয়েছিলেন। এসময়গুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় পরিপূর্ণ এবং তা আমাদের জন্য আল্লাহর রাস্তায় ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

হিজরতের প্রথম বছরে রাসূল (সঃ) হামযা ইবন আব্দুল মোত্তালিবের নেতৃত্বে ত্রিশজন মুসলিম অশ্বারোহীকে সাঈফ আল বাহরে প্রেরণ করেন। সেখানে কুরাঈশদের তিনশ’ অশ্বরোহী তাঁবু গেড়েছে এই সংবাদ তদন্তের জন্য তাদের সেখানে প্রেরণ করা হয়। মুসলিমরা সেখানে কাফিরদের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধে উদ্যত হয়েছিল তবে মাজদী ইবন উমর আল জুহানীর তৎপরতায় তা প্রতিহত হয়। এসময় মুনাফিকেরা মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধতা নস্যাতের আশায় মদীনায় তাদের মসজিদ নির্মাণ করেছিল (যা ‘মসজিদ আদ দিরার’ নামে পরিচিত) রাসূল (সঃ) রমজান মাসেই তা ধূলিস্যাৎ করার নির্দেশ দেন।

হিজরতের ৩য় বর্ষে ১৭ই রজমান তারিখে সর্বশক্তিমান আল্লাহ ঐতিহাসিক বদরের ময়দানে মিথ্যাকে অপসৃত করে সত্যের বিজয় দান করেন। রাসূল (সঃ) ৩১৩ জন সাহাবী নিয়ে তাদের-ই মক্কায় পরিত্যক্ত সম্পদে সুসজ্জিত বিশাল কাফির বাহিনীর মোকাবিলায় বদর প্রান্তরে রওয়ানা হন। কাফির বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং আবু সুফিয়ান; সাথে পাথেয় ছিল ৫০,০০০ দিনার। কুলীন বংশীয় কুরাঈশদের সমন্বয়ে রণসজ্জায় সুসজ্জিত কাফির বাহিনী ছিল ইসলামের আলো নির্বাপণে বদ্ধপরিকর। সংখ্যায় এক তৃতীয়াংশ এবং দৌর্বল্য ও কঠিন দুঃসময় সত্ত্বেও মুসলিমগণ তাদের বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রবলভাবে লড়াই করেছিল। তাদের ঐকান্তিক বাসনা ছিল রাসূলের (সঃ) নিরাপত্তা দান; তাদের মাঝে আরও ছিল শাহাদৎ লাভের মাধ্যমে রবের সাক্ষাত লাভের বাসনা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদেরকে এই রমজান মাসেই যথোচিত, সুস্পষ্ট বিজয় দান করেন, যা কখনো ভুলবার নয়।

হিজরতের ষষ্ঠ বর্ষে ওয়াদি আল কুরার নেত্রী ফাতিমা বিনত রাবিয়াকে মোকাবিলা করার জন্য যায়িদ বিন হারিসার নেতৃত্বে একটি বাহিনী প্রেরণ করা হয়। ইতপূর্বে ফাতিমা যায়িদের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি কাফেলার উপর হামলা করে সম্পদ লুণ্ঠন করেছিল। ফাতিমা আরবের সবচেয়ে সুরক্ষিত মহিলা হিসেবে সুপরিচিত ছিল এবং সে তার ঘরে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের ৫০ খানা তরবারি ঝুলিয়ে রাখত। ইসলামের প্রতি আপোষহীন হিংসা প্রদর্শনকারী হিসেবেও তার দুর্নাম ছিল। মুসলিমগণ রমজান মাসেই পরিচালিত এই অভিযানে এই অসূয়াপরায়ণ মহিলাকে হত্যা করেন।

অষ্টম হিজরীর রমজান মাসে হুদায়বিয়ার চুক্তি ভঙ্গ হয় এবং মুসলিমগণ উত্তরে বাইজেন্টাইনদের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এসময় মুহাম্মদ (সঃ) আরব উপদ্বীপের প্রথাগত অবিশ্বাসের উপর তীব্র আঘাত হেনে মক্কা নগরী জয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। আল্লাহ মক্কা নগরীকে নিরাপদ ও পবিত্র নগরী হিসেবে ঘোষণা করেন। অতএব, সময়ের দাবি ছিল কাবাকে নগ্নতা, এবং জঘন্য ঘৃণার্হ কাজ থেকে পবিত্র করার। রাসূল (সঃ) এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কাপানে যাত্রা করেন। এই বাহিনীতে সহযাত্রী হয়েছিল প্রায় ১০,০০০ মুসলিম। এত বিশাল সমাবেশ ইত্যবসরে কখনো হয়নি। লোকেরা দলে দলে মুসলিম বাহিনীতে যোগ দিতে লাগল। আল্লাহর দিক নির্দেশনায় পরিচালিত ঈমানদারদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা এতটাই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল যে, ২০ রমজান তারিখে কোন রকম মোকাবিলা ছাড়াই মক্কা বিজয় সম্ভবপর হয়। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটি এতটাই সাফল্যে উদ্ভাসিত ও তাৎপর্যমণ্ডিত যে এরপরে ইসলাম আরব উপদ্বীপে দ্রুতলয়ে প্রসারিত হতে থাকে। একই বছর, একই মাসে মক্কার আল লাত, মানাত, সুরা প্রভৃতি বিখ্যাত মূর্তিসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হয় এবং মুসলিম বাহিনীকে মূর্তিপূজকদের অন্যান্য সমৃদ্ধ নগর কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সময়ে এরকমই ছিল রমজান মাসের চিত্র। এ মাস ছিল পবিত্রতা অর্জন, সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাঁধাদান এবং নিজের জান ও মাল দিয়ে কঠিন পরিশ্রমের সময়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর মৃত্যুর পর, মুসলিমরা এ ধারা সমুন্নত রাখে এবং আল্লাহ প্রকৃত বিশ্বাসীদের হাতে ইতিহাসের পট-পরিবর্তনকে অব্যাহত রাখেন। পূর্বের মতই রমজান মাস বড় বড় পরীক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রেক্ষাপট হিসেবে আবির্ভূত হতে থাকল।

হিজরতের ৯২ বছর পর উত্তর আফ্রিকা, ইরান, আফগানিস্তান ইয়েমেন ও সিরিয়াতে ইসলামের প্রসার ঘটে। স্পেনে তখন চলছিল ভিসিগথদের রাজা জড়ফবৎরপ এর স্বৈরাচারী শাসন। জড়ফবৎরপ এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ তার ৬ মিলিয়ন ভূমিদাস এবং অত্যাচারিত ইহুদীরা উত্তর আফ্রিকার মুসলিমদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। উত্তর আফ্রিকার উমাইয়া খলিফার গভর্ণর মুসা ইবন হুযাইর ১২০০০ সৈন্য বিশিষ্ট এক বাহিনীর প্রধান বানিয়ে সাহসী সেনাপতি তারিক ইবন যিয়াদকে পাঠালেন। ঐ বছর রমজান মাসে তাঁরা স্বয়ং রাজা জড়ফবৎরপ এর নেতৃত্বাধীন ৯০,০০০ খ্রীস্টানের এক বাহিনীর সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, নিজ বাহিনীকে জড়ফবৎরপ নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন হাতির দাঁত, রৌপ্য ও দামী রতœখচিত একটি সিংহাসনে বসে। নৌকাযোগে যুদ্ধক্ষেত্রে উপনীত হয়ে তারিক নৌকাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিলেন, এবং মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে বললেন, যে তাঁদের সম্মুখে রয়েছে বিজয় কিংবা জান্নাত, আর পশ্চাতে রয়েছে পরাজয় কিংবা অথৈ সমুদ্র। মুসলিম বাহিনী অনুপ্রাণিত হয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন পূর্ণোদ্যমে এবং আল্লাহ কাফিরদের বিরুদ্ধে তাদেরকে স্পষ্ট বিজয় দান করলেন। কেবল জড়ফবৎরপ যে মৃত্যুবরণ করল তাই নয়, বরং তারিক এবং মুসা সমগ্র স্পেন, সিসিলি এবং ফ্রান্সের কিয়দংশকে স্বৈরাচারী দুঃশাসন থেকে মুক্ত করেছিলেন। এটা ছিল আল-আন্দালুসে ৭০০ বছরের মুসলিম শাসনের স্বর্ণযুগের সূচনা।

৫৮২ হিজরীতে সালাউদ্দিন আল আইয়ুবী দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ ক্রুসেডারদের সাথে যুদ্ধ করার পর অবশেষে সিরিয়া এবং তাদের দখলকৃত অন্যান্যস্থানকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করতে সক্ষম হন, আর এ ঘটনা ঘটেছিল রমজান মাসেই।

হিজরী সপ্তম শতাব্দীতে মোংগলীয়রা এশিয়ায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা সহকারে তাদের আগ্রাসন শুরু করে। চেঙ্গিস খান নিজেকে আল্লাহর গযব হিসেবে মানুষকে তাদের পাপের কারণে শাস্তি দিতে প্রেরিত হয়েছে বলে দাবি করত। ৬১৭ হিজরীতে সমরকন্দ, জধু এবং হামদানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল যাতে ৭ লক্ষেরও অধিক লোক নিহত এবং বন্দী হয়। ৬৫৬ হিজরীতে চেঙ্গিস খানের নাতি হালাকু এই ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রাখে, এমনকি মুসলিম বিশ্বের তৎকালীন প্রধান শহর বাগদাদেও লুটপাট হয়েছিল। কোন কোন হিসাবে এই ব্যাপক হত্যাযজ্ঞে ১৮ লক্ষ মুসলমান নিহত হয়েছিল। খ্রীস্টানদের প্রকাশ্যে শূকর খেতে এবং মদ পান করতে উৎসাহিত করা হত, যেখানে বেঁচে যাওয়া মুসলমানদের মদের আসরে অংশ নিতে বাধ্য করা হত। মদ মসজিদে ছিটানো হত এবং আযান দেয়ার অনুমতি দেয়া হতো না। এরকম ভয়ংকর বিপর্যয়ের সময়ে এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্ব এবং ইউরোপে একই ভাগ্য আপতিত হওয়ার হুমকির মুখে আল্লাহ মিসরীয় মামলুকদের মধ্য থেকে সাইফুদ্দিন কুতুবকে বাছাই করলেন যিনি মুসলিম সৈন্যদের ঐক্যবদ্ধ করে ২৫ রমযান ৪৫৮ হিজরীতে আইন জালুত নামক স্থানে মোংগলীয়দের মুখোমুখি হন। যদিও তারা প্রবল চাপের মধ্যে পড়েছিল, মুসলমানরা আল্লাহর সাহায্যে, সুকৌশলে এবং অদম্য সাহসে মোংগল সৈন্যদের পরাস্ত এবং বিভীষিকার এই ধারাকে বিপরীত দিকে প্রবাহিত করে। ইসলামের মহান সন্তানদের অবিস্মরণীয় অর্জনে সমগ্র সভ্য বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল এবং আশ্চর্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল।

এই ছিল রমজানের প্রেরণা যা আমাদের পুণ্যবান পূর্বপুরুষদেরকে আপাত দৃষ্টিতে অসম্ভব সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করেছিল। এটা ছিল অধিক ইবাদত ও পরিশ্রমের সময় যখন দিবস অতিবাহিত হত ঘোড়ার পিঠে আর রাত্রি অতিক্রান্ত হত সালাতে আল্লাহর করুণা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে।

বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা আজ খরা, সামরিক আগ্রাসন, ব্যাপক দুর্নীতি এবং বস্তুবাদী দর্শন দ্বারা আক্রান্ত। তাই আমাদের আজ প্রয়োজন এমন মুমিনের যে আমাদের প্রিয় নবীজী (সঃ), তাঁর আলোকিত সাহাবীগণ, তারিক ইবন যিয়াদ, কুতুব, সালাহউদ্দিন এবং এরকম অগণিত মুসলিম ব্যক্তিত্বের পথ অনুসরণ করবে। আমাদের প্রয়োজন এমন মুমিনদের, যারা অবিশ্বাসীদের হুমকির ব্যাপারে নির্ভীক এবং বিশ্বাসীদের প্রতি দয়ার্দ্র ও বিনয়ী; এমন মুসলিম, যাদের রোযা শুধুমাত্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণার উদ্রেককারী নয়, বরং পূর্ণ রোযা।

আমরা আশা করি, আল্লাহ মুসলিমদের মাঝ থেকে এমন এক প্রজšে§র উত্থান ঘটাবেন, যারা ইসলামের বাণীকে পৃথিবীর সর্বত্র পৌঁছে দেবে। আল্লাহ এরকম এক প্রজšে§র আবির্ভাবের উপযোগী ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে আমাদের সাহায্য করুন। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা রমজান মাসে এবং রমজান অতিবাহিত হলেও ইসলাম প্রচারে রত থাকে, এবং যারা তা করতে ব্যর্থ হয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত না করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ আমাদের নবী (সঃ) এর ওপর সালাম পাঠ করে থাকেন, হে বিশ্বাসীগণ, তাঁর জন্য দু’আ এবং চিরকালীন শান্তি কামনা কর।

Advertisements

One comment on “ইতিহাসের আলোকে রমজান মাস

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s