গ্যালারি

আকিদার মূলনীতিঃ ইচ্ছা বা চাওয়ার ক্ষেত্রে তাওহীদ -৩

ইচ্ছা বা চাওয়ার ক্ষেত্রে তাওহীদ (তাওহীদুল উলুহিয়্যা)

[প্রথম পর্ব: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আকীদার সংক্ষিপ্ত মূলনীতি]
[দ্বিতীয় পর্ব: আকিদার মূলনীতিঃ জ্ঞান ও বিশ্বাস বিষয়ক তাওহীদ]

  • ১. আল্লাহ এক, একক। তাঁর রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত, নামসমূহ এবং গুণসমূহে কোন শরীক নেই। তিনি সকল সৃষ্টিকুলের রব এবং যাবতীয় ইবাদত পাওয়ার তিনিই একমাত্ অধিকারী।
  • ২. দো‘আ, বিপদে সাহায্য প্রার্থনা, ত্রাণ চাওয়া, মান্নত, যবেহ, ভরসা, ভয়-ভীতি, আশা, ভালোবাসা এবং এমনি ধরনের সকল ইবাদত আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য করা শির্ক। যে উদ্দেশ্যেই তা করে থাকুক না কেন, চাই তা কোন নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতার জন্য করুক বা কোন নবী-রাসূলের জন্য করুক, অথবা কোন সৎ বান্দার জন্যই হোক বা অন্য কারও জন্য হোক ।
  • ৩. ইবাদতের অন্যতম মূলনীতি হচ্ছে, ভালোবাসা, ভয়-ভীতি ও আশা-আকাঙ্খা সহকারে আল্লাহর ইবাদাত করা। এর কোন অংশ বাদ দিয়ে অপর অংশ দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করা পথভ্রষ্টতা। কোন আলেম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় না করে বা তার রহমতের আশা না করে শুধুমাত্র তাঁর ভালোবাসায় ইবাদাত করে, সে ব্যক্তি যিন্দীক এবং যে শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় কিন্তু তাঁকে ভালোবাসে না বা তাঁর রহমতের আশা করে না, সে ব্যক্তি হারুরী । আর যে ভয়-ভীতি ও ভালবাসা শূণ্য হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর রহমতের আশায় তাঁর ইবাদত করে। সে মুরজিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
  • ৪. সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পন করা, পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ এবং নিরঙ্কুশ আনুগত্য কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রাপ্য। আর আইন-বিধান প্রদানকারী হিসেবে আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করা আল্লাহ্‌কে রব ও ইলাহ হিসেবে ঈমান আনয়ন করার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং হুকুম-আহকাম তথা বিধি-বিধান ও নির্দেশ প্রদানে আল্লাহর কোন শরীক বা অংশীদার নেই। আর যে বিষয়ে আল্লাহর অনুমোদন নেই, সেটাকে বিধান মনে করা বা তাগুত তথা আল্লাহ্‌বিরোধী শক্তির নিকট ফয়সালা চাওয়া, অথবা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী‘আত ব্যতীত অন্য কোন শরী‘আতের অনুসরণ করা এবং ইসলামী শরী‘আতের কোন প্রকার পরিবর্তন করা কুফুরী। আর কেউ যদি মনে করে যে ইসলামী শরী‘আতের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অধিকার তার রয়েছে তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে।
  • ৫. আল্লাহর অবতীর্ণ আইন ব্যতীত অন্য আইন দিয়ে শাসন করা বড় কুফুরী। কিন্তু অবস্থার আলোকে কখনো কখনো এটি ছোট কুফুরীর পর্যায়ে পড়বে।
  • বড় কুফুরী হবে তখন, যখন আল্লাহর আইন ব্যতীত অন্য আইন অবশ্যম্ভাবী করে নিবে, অথবা অন্য আইন দিয়ে শাসন করাকে বৈধ করে নিবে।
  • আর ছোট কুফুরী হবে তখন, যখন আল্লাহর আইনকে বাধ্যতামূলকভাবে মেনে নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট ঘটনায় প্রবৃত্তির টানে আল্লাহর শরী‘আত থেকে সরে এসে অন্য কোন আইন দিয়ে ফয়সালা করে।
  • ৬. দ্বীনকে হাকীকত ও শরী‘আত ভাগ করা এবং মনে করা যে, হাকীকাত পর্যন্ত পৌঁছতে পারে মুধুমাত্র বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ওলী বুজুর্গগণ, আর শরী‘আত শুধু সাধারণ মানুষকেই মানতে হবে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের তা মানার কোন বাধ্যবাধকতা নেই, অনুরূপভাবে, রাজনীতি ও এরূপ অন্যান্য বিষয়কে দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন করা, এসবই বাতিল-অসার কথা। বরং ইসলামী শরী‘আত বিরোধী যাবতীয় হাকীকত অথবা রাজনীতি অথবা অন্য সকল কিছুই অবস্থা ও পর্যায় ভেদে হয় কুফরী না হয় পথভ্রষ্টতা হিসেবে গণ্য হবে।
  • ৭. গায়েবের বিষয়াদি শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলা জানেন। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ গায়েব জানে এমন ধারণা পোষণ করা কুফরী, তবে এও ঈমান রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা‘আলা অনেক সময় গায়েবসংক্রান্ত অনেক বিষয় তাঁর রাসূলগণকে পরিজ্ঞাত করে থাকেন।
  • ৮. জ্যোতিষ ও গণকদের কথা সত্য বলে বিশ্বাস করা কুফুরী এবং কোন কিছু গণনা বা পরীক্ষার জন্য তাদের নিকট যাওয়া-আসা করা কবীরা গুনাহ।
  • ৯. কুরআন শরীফে যে উসিলা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে তার অর্থ হলো, ঐ সমস্ত বৈধ ইবাদত যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।
    • এক: বৈধ : আর তাহলো আল্লাহ তা‘আলার নামও তাঁর গুণাবলীর মাধ্যমে বা ব্যক্তির নিজের নেক আমলের মাধ্যমে অথবা কোন নেককার লোক দ্বারা দো‘আ করার মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করা।
    • দুই: বিদ‘আত: আর তাহলো শরী‘আত পরিপন্থি কোন পদ্ধতিতে উসিলা তালাশ করা , যেমন: নবী-রাসূল বা নেককার লোকদের সত্তার দোহাই দিয়ে, কিংবা তাঁদের মহিমা বা সাধুতা, তাদের অধিকার ও তাদের সম্মান ও পবিত্রতার দোহাই দিয়ে উসিলা গ্রহণ করা।
    • তিন: শির্ক: এর উদাহরণ, যেমন ইবাদতের জন্য মৃতব্যক্তিকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা অথবা তাদেরকে আহ্বান করা, ডাকা বা তাদের নিকট প্রয়োজন পূরণ করা চাওয়া এবং সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের সাহায্য চাওয়া, ইত্যাদি।
  • ১০. কোন কিছু বরকতময় বা মঙ্গলময় হয়ে থাকে আল্লাহর পক্ষ হতে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাঁর সৃষ্টিতে বিশেষভাবে বরকত প্রদান করে থাকেন। তবে কোন কিছুর বরকতময় হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে দলিল প্রমাণের উপর।
    • বরকতের অর্থ হলো, কল্যাণ বা মঙ্গলের আধিক্য হওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া, কোন কিছুতে তা অবশিষ্ট থাকা বা কোন কিছুতে তার স্থায়িত্ব লাভ।
    • তন্মধ্যে সময়ে আল্লাহর বরকত, যেমন: কদরের রাত্রি।
    • স্থানের মধ্যে বরকত যেমন, মাসজিদুল হারাম, মসজীদে নববী এবং মসজিদে আকসা।
    • বস্তুর মধ্যে বরকত, যেমন: যামযমের পানি
    • আমল বা কর্মকাণ্ডের মধ্যে বরকত, যেমন: সকল নেক আমলই বরকতময়।
    • ব্যক্তি সত্ত্বায় বরকত, যেমন: ব্যক্তি হিসাবে সমস্ত নবীদের সত্ত্বা বরকতময়; কিন্তু কোন ব্যক্তির –সত্তা কিংবা স্মৃতির- নামে বরকত চাওয়া জায়েজ নয়, শুধুমাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তি সত্তা বা তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বস্তুসমূহ থেকে তাঁর জীবদ্দশায় বরকত গ্রহণ করা জায়েজ বলে, দলিল দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু রাসূলের মৃত্যু ও তাঁর স্মৃতি জড়িত বস্তুসমুহ তিরোহিত হবার পর এ সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল।
  • ১১. বরকত গ্রহণ করার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে ‘তাওকীফী’ বা কুরআন ও হাদীস থেকে জ্ঞান লাভের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং কোন বস্তু থেকে বরকত নেয়া দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে হতে হবে।
  • ১২. কবর যিয়ারত এবং কবরের নিকট মানুষ যে সমস্ত কাজ করে থাকে, তা তিন প্রকার:
    • প্রথম: শরী‘আত সম্মত যেমন : আখেরাতকে স্মরণের উদ্দেশ্যে কবর যিয়ারত করা, এবং কবরবাসীদের উপর সালাম ও তাদের জন্য দো‘আ করা।
    • দ্বিতীয়: বিদ‘আত বা অভিনব পন্থায় যা তাওহীদের পূর্ণতার পরিপন্থী: যা শির্কের মধ্যে পতিত হওয়ার মাধ্যম। যেমন: আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কবরের কাছে গমন করা অথবা কবর দ্বারা বরকত লাভের উদ্দেশ্য নেয়া, বা কবরের কাছে সাওয়াব হাদীয়া হিসেবে পেশ করা, অথবা কবরের উপর সৌধ নির্মান, কবর বাঁধাই করা, সুসজ্জিত করা ও বাতি দেওয়া অথবা কবরকে মসজিদ বা নামাজের স্থান বানানো কিংবা বিশেষ কোন কবরকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ করা ইত্যাদি। কারণ, এ ধরনের কাজ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন অথবা শরী‘আতে এর কোন স্থান নেই।
    • তৃতীয়: শির্কী যা তাওহীদ পরিপন্থি: কবরের নিকট এমন কাজ কর্ম করা যা নির্ভেজাল শির্ক । আর তাওহীদ পরিপন্থী, যেমন কবরস্থ ব্যক্তির জন্য কোন ইবাদত করা বা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে আহ্বান করা, ডাকা এবং কবরস্থ ব্যক্তির নিকট সাহায্য চাওয়া বা তার দ্বারা উদ্ধার কামনা করা, অথবা কবরের চারপার্শে তাওয়াফ করা অথবা এর জন্য যবেহ করা, একে উদ্দেশ্য করে মানত করা, ইত্যাদি।
  • ১৩. “কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যত মাধ্যম আছে সে সব মাধ্যমের বিধি-বিধান সে উদ্দিষ্ট বস্তুর বিধি-বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।” সুতরাং আল্লাহ্‌র ইবাদতের ক্ষেত্রে শির্ক হয় বা আল্লাহ্‌র দ্বীনের মধ্যে বিদআতের প্রসার ঘটবে এমন যাবতীয় মাধ্যম বন্ধ করা ওয়াজিব। আর দ্বীনের মধ্যে সৃষ্ট অভিনব সকল কাজেই বিদ‘আত নিহিত। আর প্রতিটি বিদ‘আততই পথভ্রষ্টতা।
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s