গ্যালারি

মুসলিম উম্মাহর মানসিক বিপর্যয় ঃ কারণ ও প্রতিকার – ২

মূল ঃ ড. আব্দুল্লাহ আল-খাতির
অনুবাদ ঃ মুফতী কিফায়াতুল্লাহ
সম্পাদনা ঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুররহমান

মানসিক বিপর্যয়ের কারণসমূহ

মানসিক বিপর্যয়ের কিছু কারণ রয়েছে আভ্যন্তরীণ- যা নিজেদেরই সৃষ্ট। আর কিছু কারণ রয়েছে বহিরস্থ যা শত্র“দের সৃষ্ট। নিম্নে আমরা উভয় প্রকার কারণ নির্দেশের যথাসাধ্য চেষ্টা করব। প্রথমে আভ্যন্তরীণ কারণ নিয়ে আলোচনা করা যাক।

আভ্যন্তরীণ কারণসমূহ

প্রথম কারণ ঃ ঈমানের দুর্বলতা

ঈমান যখন দুর্বল হয়ে যায়, মনোবল তখন ভেঙে পড়ে। অন্তর হয়ে উঠে হতাশা গ্রস্ত। ব্যক্তি তখন ধৈর্যহারা হয়ে বিপদ-আপদ সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে তার পক্ষে মহান কোন দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না। সে এমন সব সাধারণ ও তুচ্ছ কাজে লিপ্ত হয়, যা তার ব্যক্তিত্বকে আরও দুর্বল ও খাটো করে দেয়।

বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিমদের অবস্থাও এ পর্যায়ে এসে পৌছেছে। ঈমানী দুর্বলতার কারণে তারা হীনমন্য, ধৈর্যহীন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিষয়াবলী ছেড়ে দিয়ে তারা সাধারণ ও অনর্থক কাজে লিপ্ত রয়েছে।

দ্বিতীয় কারণ ঃ  জিহাদ বর্জন

বর্তমানে মুসলিমগণ প্রকৃত অর্থে জিহাদ ছেড়ে দিয়েছে। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিহাদ বর্জনের ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন জিহাদ বর্জন মুসলিমদের জন্য লাঞ্ছনা ও অপমান-অপদস্থতা ডেকে আনবে। সহীহ হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ

إذا تبايعتم بالعينة، وأخذتم إذناب البقر، ورضيتم بالزرع، وتركتم الجهاد سلط الله عليكم ذلا، لا ينـزعه عنكم حتى ترجعوا إلى دينكم.

“যখন তোমরা ‘ঈনা’ পদ্ধতিতে বেচা-কেনা করবে, চাষাবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়বে, জমিজমা ও ফসল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ বর্জন করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর অপমান-লাঞ্ছনা চাপিয়ে দিবেন। এ অপমান-অপদস্থতা থেকে তোমরা মুক্তি পাবে না যতক্ষন না তোমরা তোমাদের ধর্মে (জিহাদে) ফিরে আসবে। (আবু দাউদ ঃ ৪৯০)

ব্যাখ্যা ঃ عينه “ঈনা” এক প্রকার বিক্রয় পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কৌশলে সুদী লেনদেন করা হয়। বর্তমানে তো কৌশলে সুদ গ্রহণের প্রয়োজন নেই। মুসলিমগণ সরাসরিই সুদী কারবারে জড়িত।

أخذتم أذناب البقر অর্থ ঃ তোমরা গরু বা বলদের লেজ ধরবে- এ বাক্য দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে চাষাবাদের প্রতি।

رضيتم بالزرع ফসল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে- বাক্য দিয়ে বুঝানো হয়েছে তোমরা পার্থিব ভোগ বিলাসিতা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে।

لا ينزعه عنكم حتى ترجعوا إلى دينكم আল্লাহ তোমাদের লাঞ্ছনা ঘুচাবেন না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের ধর্মে ফিরে আসবে- হাদীসের এই অংশটি হচ্ছে চিকিৎসা। অর্থাৎ সুদী কারবার, পার্থিব ভোগ বিলাসিতা অবলম্বন ও জিহাদ বর্জনের ব্যাধিতে যখন মুসলিম উম্মাহ আক্রান্ত হবে তখন তারা চরমভাবে লাঞ্ছনা গঞ্ছনার শিকার হবে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই তাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। দ্বীন ইসলামকে মজবুত ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে এবং জিহাদের ঝান্ডা হাতে নিতে হবে।

তৃতীয় কারণ ঃ দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে অনিবার্য বিপদাপদের ভয়

দ্বীন আহকাম পালনে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে যেসব বিপদাপদের মুখোমুখি হতে হয়, বর্তমান মুসলিমগণ তার জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত। সেগুলোকে তারা অনাকাঙ্খিত মনে করে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় তারা যেন এই আশা নিয়ে বসে আছে যে, দ্বীনের পথ হবে কুসুমাস্তীর্ণ, সহজ-সংক্ষেপ ও বিপদমুক্ত। অথচ প্রকৃত সত্য হল, দ্বীনের পথ হচ্ছে বিপদসংকুল ও কন্টকাকীর্ণ। পরীক্ষা করার জন্যই আল্লাহ তাআলা এসব বিপদাপদ দিয়ে থাকেন। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ঃ

أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آَمَنَّا وَهُمْ لا يُفْتَنُونَ . وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ .

“মানুষ কি মনে করে যে, তারা এ কথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ আর তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না। আমি তো তাদেরকে পরীক্ষা করেছি যারা এদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ নিশ্চয়ই জেনে নিবেন (প্রকাশ করবেন) কারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নিবেন (প্রকাশ করবেন) কারা মিথ্যাবাদী।” (সূরা আনকাবুত ঃ ২-৩)

সুতরাং যারা এ আশা পোষণ করে যে, দ্বীনের পথ হবে নিস্কন্টক, সহজ ও বিপদমুক্ত, তারা মূলত ঃ ভুলের মধ্যে রয়েছে। কেননা বিপদাপদ এসে থাকে ইসলাম অনুসরণে একনিষ্ঠতার দাবীতে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীদের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করার জন্য। এ জন্য আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ

فليعلمن الله الذين صدقوا وليعلمن الكاذبين.

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জেনে নিবেন (প্রকাশ করে দিবেন) কারা সত্য বলেছে, আর কারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।”

যারা সত্যবাদী, শত বিপদের সময়েও তারা দ্বীনের উপর অবিচল থাকে। আর যারা মিথ্যাশ্রয়ী, বিপদের সময় তাদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে যায়।

সত্যবাদিতা ও একনিষ্ঠতা তো আর দাবী করে প্রমাণ করার বিষয় নয় যে, ‘আমার ঈমান ঠিক’ ‘আমার দিল সাফ’ ইত্যাদি বাগাড়ম্বর দ্বারা তা প্রমাণিত হয়ে যাবে। বরং সত্যবাদিতা হল কঠিন বাস্তবতা- যা প্রমাণিত হয় বাস্তব জীবনে বিপদ ও মুসীবতের মুখোমুখি হলে।

এ বিপদ দু’ধরনের হয়ে থাকে, ছোট ও বড়। দ্বীনের উপর চলতে গিয়ে পরিবারস্থ লোকজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের দিক থেকে যে সব বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয় সেগুলো ছোট বিপদ। আর জেল, জুলুম, হত্যা, নির্যাতন, নাগরিকত্ব হরণ ইত্যাকার মুসিবত হল বড় বিপদ। ছোট হোক, আর বড় হোক- দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাধা-বিপত্তি ও বিপদাপদের সম্মুখীন হওয়াটা স্বাভাবিক। এসব বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে এবং দুঃখ-যতনা জয় করেই অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। কাজেই দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করার জন্য সবাইকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। কেননা দ্বীনের পথ হল কন্টকময়, বন্ধুর। স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ

حفت النار بالشهوات وحجت الجنة بالمكاره

“জাহান্নামকে প্রবৃত্তির কামনা দ্বারা, আর জান্নাতকে কষ্ট-ক্লেশ দ্বারা আবৃত করা হয়েছে।” (বুখারী : ২/৯৬০)

অর্থাৎ যে সব কর্মের পরিণতিতে মানুষ জাহান্নামে যাবে, তার সবগুলোই বাহ্যিকভাবে সুন্দর ও মনোগ্রাহী। সফস বা প্রবৃত্তি এগুলোকে খুবই পছন্দ করে। এজন্য জাহান্নামের পথ অতি সহজ। আর যে সব কর্মগুণে মানুষ জান্নাতের অধিকারী হবে, সেগুলো কঠিন ও কষ্টকর। প্রবৃত্তি কখনো তা করতে চায় না। এজন্য জান্নাতের রাস্তা কঠিন ও বিপদসংকুল। তাই জান্নাতের প্রত্যাশী ঈমানদারদের বিপদাপদে মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

চতুর্থ কারণ ঃ ক্ষেত্র বিশেষের ব্যর্থতাকে সার্বিক ব্যর্থতা মনে করা

এক শ্রেণীর মানুষ এমন রয়েছে, যারা কোন এক ক্ষেত্রের ভুল-ভ্রান্তিকে সর্বক্ষেত্রের ভুল মনে করে এবং ক্ষেত্র বিশেষের ব্যর্থতাকে সার্বিক ব্যর্থতা বিবেচনা করে সীমাহীন মানসিক যন্ত্রনায় ভুগতে থাকে। নিজের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল করে নেয় যে, “ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই ভাগ্যে নেই।” ফলে সে হতাশা ও মানসিক দুর্বলতায় চরমভাবে নিপতিত হয়।

পঞ্চম কারণ ঃ ইতিহাসকে সংকীর্ণ দৃষ্টিতে বিবেচনা করা

উদাহরণ স্বরূপ মনে করুন, কোন ব্যক্তি এমন শহরে বসবাস করে, যেখানে মুসলিমদের পারস্পরিক মতানৈক্য ও দলাদলি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ লোক তার এলাকার এ সমস্যাকে ব্যাপক আকারে দেখতে শুরু করে। মনে করে, সারা পৃথিবীতেই বুঝি মুসলিমদের এই দুর্দশা। ফলে সে হতাশায় ভুগতে থাকে। কাজেই এ ধরণের বিচ্ছিন্ন কোন সমস্যাকে ব্যাপকরূপে বিবেচনা করা উচিত নয়। অন্যথা হতাশায় নিমজ্জিত হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

কিছুদিন পূর্বে আমি জনৈক লোকের সাথে আলোচনা করছিলাম। তিনি বলছিলেন, “আমাদের দেশে শিশু-কিশোরদের মাঝে কোরআন হিফজ করার চর্চা এখনো গড়ে উঠেনি। বড়রাও মৃত্যু পথযাত্রী। এ অবস্থা চলতে থাকলে তো হাফেজে কুরআনের সংকট প্রকট আকারে দেখা দিবে।” এ লোক নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে তার দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন। অথচ তিনি যদি বহির্বিশ্ব সফর করতেন, কিংবা তার আশেপাশে নজর দিতেন তাহলে অবশ্যই তার এই ভুল দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটত। তিনি দেখতে পেতেন যে, সাধারণ মুসলিমদের মাঝে ইসলামের চর্চা কত বেশী, আর দ্বীনি চেতনা কত প্রখর। হয়তো সামাজিক কোন সমীবদ্ধতা কিংবা অন্য কোন কারণে তার এলাকায় সে চেতনা অনুভূত হচ্ছে না।

কিন্তু অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি দিয়ে দেশ-বিদেশে সফর করলে এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে পড়া- লেখা করলে মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে, যা মনে আশাবাদ সৃষ্টি করবে এবং ইসলামী পুনর্জাগরণের চেতনায় উজ্জীবিত করবে। সুতরাং নির্দিষ্ট একটি ভূখন্ডে দৃষ্টিকে নিবদ্ধ রাখলে নিরাশ হতে হবে।

অনুরূপভাবে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের পরিধিকে যদি বিশেষ কোন সময়ের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তাহলেও অন্তরে হতাশা ছেয়ে যাবে। যেমন, বর্তমান সময়ের প্রতি লক্ষ্য করে যদি বলা হয়, আন্তর্জাতিক সীমারেখা ইসলামী বিশ্বের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করেছে, গোটা মুসলিম জাতি ভূখন্ডে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের পারস্পরিক অবস্থান খুবই দুর্বল, দ্বীনের দা’য়ীগণও প্রত্যেকে বিচ্ছিন্নভাবে মেহনত করেছেন, তাহলে এ জাতীয় চিন্তা-ভাবনা আমাদেরকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিবে।

পক্ষান্তরে আমরা যদি অতীত ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, তাহলে সেখান থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারি। তাতারীদের সময়ের কথাই ধরা যাক। তাতারীরা মুসলিমদেরকে চরমভাবে পর্যুদস্ত করে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে তারা অবলীলায় হত্যা করেছে। লাগাতার দীর্ঘ চল্লিশ দিন তারা মুসলিম নিধন করেছে। তাদের ভয়ে সমস্ত মানুষ এমনভাবে আত্মগোপন করেছিল যে, দীর্ঘ চল্লিশ দিন যাবত বাগদাদে কেউ জামাআতে নামাজ আদায় করতে বের হয়নি।

হিজরী চতুর্থ শতকের শুরুতে কারামেতা বাহিনী পূর্ব আরব শাসন করত। তিনশত তের হিজরীর ৮ই যিলহজ আবু তাহের কারামতীর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র বাহিনী মক্কায় প্রবেশ করে অসংখ্য মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং “হাজরে আসওয়াদ” ছিনিয়ে নেয়। অতঃপর তাদের নেতা সদম্ভে চিৎকার করে বলে, ‘কোথায় সে আবাবীল পাখি! কোথায় পাথর বৃষ্টি?’ এ জালিমরা হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নিয়ে দীর্ঘ বাইশ বৎসর (৩১৭-৩৩৭ হি:) পর্যন্ত পূর্ব আরবে স্থাপন করে রাখে। সেখানে শুধু শিয়া কারামতীরাই হাজরে আসওয়াদের তাওয়াফ করতো। তারা কা’বা শরীফ স্থানান্তারিত করার মত চরম দৃষ্টতাও দেখিয়েছে। এতদসত্বেও মুসলিম উম্মাহ পুনরায় তাদের শক্তি সম্মান ফিরে পেয়েছে।

খৃষ্টান ক্রুসেড বাহিনী বায়তুল মোকাদ্দাসকে জবর দখল করে দীর্ঘ একানব্বই বছর পর্যন্ত তারা মসজিদে আকসায় তালা ঝুলিয়ে রেখেছিল। না জামাআত হতো, না জুমআ হত, বরং ৪৯২ হিজরী থেকে ৫৮৩ হিজরী পর্যন্ত প্রায় এক শতাব্দীকাল যাবত আল-আকসার উপর ক্রুস স্থাপিত ছিল। কিন্তু তারও অবসান ঘটে এবং মুসলিমরা সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ুবীর (র.) নেতৃত্বে বায়তুল মোকাদ্দাস খৃস্টান- দখল মুক্ত করে।

পক্ষান্তরে বর্তমানে বায়তুল মোকাদ্দাসের উপর ইয়াহুদী শাসন এখনও পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করেনি। সেখানে জামাআতের সাথে নামাজ আদায় হচ্ছে, জুমআর জামাআতও হচ্ছে, এখানে মসজিদের উপর ক্রুস স্থাপিত হয়নি। এতদসত্বেও মুসলিমদের মাঝে দেখা যায় পরাজয় ও দুর্বলতার ছাপ। তারা ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। আর বলছে, ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা যেহেতু বাস্তব, সেহেতু তার সাথে শান্তি ও সহাবস্থানের সম্পর্ক গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

অথচ অতীতে যখন ক্রুসেডার বাহিনী আল-আকসা দখল করেছিল, তৎকালীন মুসলিমগণ নিজেদেরকে দুর্বল ভাবেনি, পরাজিত মনে করেনি, বরং তারা আল্লাহ তাআলার এ অভয়বাণীকে সামনে রেখে নির্ভীকভাবে এগিয়ে গিয়েছিলো ঃ

وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ .

“তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দু:চিন্তা করো না, তোমরাই জয়ী হবে যদি তোমরা মু’মিন হও। (সুলা আলে ইমরান : ১৩৯)

ইতিহাস সাক্ষী, তৎকালীন মুসলিমগণ নিরাশ হয়নি, ভেঙ্গে পড়েনি। ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ খুলে দেখুন, ৫৮৩ হিজরীতে কি বীর-বিক্রমে মুসলিম বাহিনী আল-আকসায় প্রবেশ করেছিল এবং দীর্ঘ একানব্বই বছর পর সেখানে তারা কি বীরত্বের সাথে জুমআর নামাজ আদায় করেছিল।

এ সকল ঐতিহাসিক ঘটনা মনে আশার সঞ্চার করে যে, বর্তমান অবস্থাও অতি দ্রুত পরিবর্তিত হবে, ইনশাআল্লাহ। কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে যদি নির্দিষ্ট একটি সময়ের মাঝে নিজের দৃষ্টিকে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়, তাহলে আমাদেরকে তা হতাশায় নিমজ্জিত করবে। ইতিহাসের এ সব ঘটনাবলী গভীরভাবে আমাদের অধ্যয়ন করা উচিত। তাহলে ঈমানী প্রেরণা সৃষ্টি হবে এবং অন্তরে নতুন সঞ্জীবনী শক্তি সঞ্চারিত হবে।

ষষ্ট কারণ ঃ শক্তির উৎস-দ্বীন অনুসরণে চরম শিথিলতা

দ্বীন ইসলাম আঁকড়ে ধরে আমরা যে প্রবল ক্ষমতার অধিকারী হতে পারি, সে বাস্তবতার উপলব্ধি আমাদের নেই। আমরা আমাদের দ্বীনকে ছেড়ে দিয়েছি এবং তার মাঝে লুকায়িত প্রবল শক্তির অনুসন্ধান বর্জন করেছি। আমাদের ধর্মে যেমন রয়েছে ধর্মীয় বিধি-বিধান, তেমনি রয়েছে যাবতীয় বৈষয়িক সমস্যার সুষম সমাধান, যা কেয়ামত পর্যন্ত জীবন-পথের বিস্তৃত পরিসরে সকল সমস্যর সুষ্ঠু সমাধান দিতে সক্ষম। কোন জাতির জীবনে এর চেয়ে চরম ব্যর্থতা আর কি হতে পারে যে, সে পরিপূর্ণ শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী এবং বিশাল ধন-ভান্ডারের মালিক হওয়া সত্ত্বেও এই শক্তি-সামর্থ ও বিপুল অর্থবিত্ত তার কোন কাজেই লাগাতে পারলো না। কবির ভাষায় ঃ

ولم أر فى عيوب الناس شيئا ، كنقص القادرين على التمام.

অর্থঃ শক্তি আছে পূর্ণ করিবার পূর্ণ করে না তবু,

এর চে’ বড় দোষ মানুষের মাঝে দেখিনি আমি কভু।

সপ্তম কারণ ঃ উচ্চাকাংখার অভাব

বর্তমান মুসলিমদের অনেকের মাঝেই লক্ষ্য করা যায় যে, তাদের ভবিষ্যত আশা-আকাঙখা অতি ক্ষুদ্র ও সীমিত। তারা বড় ধরনের কোন আশা পোষণ করে না বিধায় উন্নতির শিখরে পৌঁছা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে তারা পর্বত শৃঙ্গে আরোহনের সাহস হারিয়ে গুহা উপত্যকায় পড়ে জীবন কাটাচ্ছে, যা তাদের জন্য চরম অবমাননাকর। কবির ভাষায় ঃ

ومن يتهيب صعود الجبال يعش أبداالدهر بين الحفر

অর্থঃ পর্বত শৃঙ্গে আরোহনে ভীত হয়ে যে জন

গুহার মাঝে জীবন তাহার কাটে আমরণ।

আলী (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, একদা তিনি তার এক ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন ঃ তুমি কার মত হতে চাও?

ছেলে বলল ঃ আমি আপনার মত হতে চাই।

আলী (রাঃ) বললেন ঃ না, বল! আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মত হতে চাই। কেননা তোমার অভীষ্ট লক্ষ যদি হয় আলী, তাহলে তুমি হয়ত আলীর স্তরে পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু তোমার লক্ষ যদি হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাকেই যদি তুমি অনুকরণীয় আদর্শ হিসাবে গ্রহণ কর তাহলে তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মত না হলেও অসম্ভব নয় যে, তুমি আলীকে অতিক্রম করে যাবে।

সুতরাং বুঝা গেল, মানুষের লক্ষ্য যত বড় হবে, আশা-আকাঙ্খা যত মহান হবে, চেষ্টা সাধনা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সে তত বড় হতে পারবে।

অষ্টম কারণ ঃ পরাজিতের ন্যায় বিজাতির অন্ধানুকরণ

কোন জাতি যখন অন্য জাতির কাছে পরাজিত হয়, তখন সে বিজয়ী জাতির সংস্কৃতির অনুসরণ করতে শুরু করে। বিখ্যাত ঐতিহাসিক আল্লামা ইবনে খালদুন স্বীয় ইতিহাস গ্রন্থের ভূমিকায় বিজিত জাতির এই দুর্বল মানসিকতার বর্ণনা এভাবে দিয়েছেন ঃ

“বিজিত সর্বদা বিজয়ীর অন্ধানুকারণের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রাক্ত হয়। সভ্যতা-সংস্কৃতিসহ সর্বক্ষেত্রেই বিজিত জাতি বিজয়ীর অন্ধানুকারণ করতে শুরু করে। কেননা, মানুষের স্বভাব হল, সে বিজয়ীর মাঝে সর্বদা পূর্ণতাই দেখতে পায়। বিজয়ীর জয় পরাজিতের মনে এই বিশ্বাসই জন্ম দেয় যে, বিজয়ী কোন সাধারণ ক্ষমতায় বিজয় লাভ করেনি। বরং সে তার আদর্শিক ও সংস্কৃতিক পূর্ণতার কারণেই বিজয়ী হয়েছে। এজন্য পরাজিত পক্ষ বিজয়ী শিক্ষা-সংস্কৃতিকে সাগ্রহে গ্রহণ করে নেয়।”

মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থাকে নিরীক্ষণ করলে দেখা যায়, মানসিক এ দুর্বলতা তথা বিজয়ী জাতির অন্ধানুকরণ বর্তমান মুসলিম উম্মাহর মাঝে পুরোপুরিই বিদ্যমান। তারা সব ক্ষেত্রেই বিজাতির অন্ধানুকরণ করে চলছে।

মানসিক বিপর্যয়ের বহিরস্থ কারণসমূহ

প্রথম কারণ ঃ শত্র“ পক্ষের সামরিক শক্তিকে অপরাজেয় মনে করা

এক শ্রেণীর লোক রয়েছে, যারা মনে করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এক একটি পরাশক্তি। এদের মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ঈমানের দুর্বলতার কারণেই তারা তথাকথিত পরাশক্তির সামনে নিজেকে ছোট ও তুচ্ছ মনে করে। অথচ তারা যদি আল্লাহ তাআলার অসীম শক্তি ও অগণিত অদৃশ্য বাহিনীর কথা চিন্তা করতো- যার হিসাব একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন, তাহলে তারা অবশ্যই বলতে বাধ্য হত যে, আল্লাহর নির্দেশে সামান্য একটি ভূমিকম্পই মেক্সিকো ও সানফ্রান্সিসকো’র মত জৌলূসপূর্ণ শহরকে নিমিষেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। আল্লাহর নির্দেশে তাদের তৈরী আনবিক বোমা তাদের দিকেই বুমেরাং হতে পারে। ‘চেরনোবিল’ এর মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আজও তাদের হৃদকম্পন সৃষ্টি করে, যে ঘটনায় নিহত হয়েছিল অসংখ্য বনী আদম। এ ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত তারা এই চিন্তায় অস্থির হয়ে আছে যে, কিভাবে আনবিক শান্তির বিস্তার রোধ করা যায়। (গ্রন্থকারের এ বক্তব্যটি সোভিয়েট ইউনিয়নের পতনের পুর্বে দেয়া। সোভিয়েট রাশিয়ার পতন তার এ আশাবাদকে আরো জোড়ালো করেছে। সম্পাদক)

সুতরাং মুসলিমদের এ বিশ্বাস রাখা উচিত যে, আমাদের জন্য আল্লাহর অসংখ্য বাহিনীই যথেষ্ট যে বাহিনীর সাথে মোকাবেলা করার সাধ্য কোন পরাশক্তির নেই। তথাপি আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে আসবাব গ্রহণ ও বৈষয়িক শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করতে হবে। তবেই আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসতে থাকবে।

দ্বিতীয় কারণ ঃ মুসলিমদের দুর্বল করতে পশ্চিমাদের স্নায়ুযুদ্ধ

শত্র“রা মুসলিমদেরকে মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য ক্রমাগত ভীতি প্রদর্শন, গুজব, অপপ্রচার ও আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের শক্তিকে বিশাল আকারে প্রকাশ করে থাকে। অথচ এ অপপ্রচারের পিছনে ততটা বাস্তবতা নেই। তাদের এই চক্রান্ত নস্যাৎ করে বিজয় লাভের জন্য প্রয়োজন সুদৃঢ় ঈমান, পাহাড়সম ধৈর্য এবং পরিপূর্ণ তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ঃ

وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا

“আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তাদের কোন চক্রান্তই তোমাদের ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।” (সুরা আলে ইমরান ঃ ১২০)

পঞ্চম ঃ  বাহিনী সমস্যা

আমাদের মাঝে একটি শ্রেণী রয়েছে, যারা আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই ভাই, আমাদের ভাষাতেই কথা বলে এবং আমাদের দেশেই তারা বসবাস করে, কিন্তু প্রতিপালিত হয়েছে শত্র“দের কোলে। তারা শিক্ষা পেয়েছে পশ্চিমাদের কাছ থেকে। তাদের মস্তিস্কের খোরাক পাশ্চাত্য সভ্যতা সংস্কৃতি। তারা স্বদেশে বসে পশ্চিমাদের জয়গান গায় এবং তাদের তথাকথিত সভ্যতার বাস্তবায়ন ঘটাতে চায়। এরা মূলতঃ পাশ্চাত্য সভ্যতার(?) সামনে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। নিজেদেরকে পশ্চিামাদের কাছে বিক্রি করে ফেলেছে। রক্তে মাংসে যদিও তারা মুসলিম, কিন্তু বাস্তবে তারা কপট-পঞ্চম বাহিনী এবং ইসলামের চরম দুশমন।

চতুর্থ কারণ ঃ মুসলিম নেতৃবৃন্দকে প্রবৃত্তির জালে জড়াতে শত্র“দের চক্রান্ত

শত্র“রা বর্তমান মুসলিমদের দুর্বলতার উৎস ভালভাবেই জেনে নিয়েছে। এজন্য তারা মুসলিমদের পরাজিত করতে সে পথেই অগ্রসর হচ্ছে। দুর্বলতার সে উৎস পথটি হল নফস বা কু-প্রবৃত্তি। পশ্চিমারাও এ কথা স্বীকার করেছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নবম লুইস মিসর আক্রমনের সময় আল-মানসুরায় বন্দী হয়। অতঃপর তাকে চার বৎসরের কারাদন্ড দেয়া হয়। বন্দী জীবনের এই দীর্ঘ সময়ে সে মুসলিমদের মানসিক অবস্থা ভালভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। মুক্তির পর স্বদেশে ফিরে সে তার জাতিকে বলেছিল, “সমর শক্তিতে কখনোই তোমরা মুসলিমদেরকে পরাস্ত করতে পারবে না। তাদেরকে পরাজিত করার একমাত্র উপায় কমনীয় নারী ও সুপেয় শরাবের পেয়ালা”।

মিঃ লুইসের দেয়া এ তথ্যই শত্র“রা আজ কাজে লাগাচ্ছে। শত্র“রা তাদের ইচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটাতে এ পথটি বেছে নিয়েছে। খাহেশাতে নফসানী তথা প্রবৃত্তির তাড়নার এ ঘৃণিত পথেই তারা মুসলিমদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে। যেমন, ‘আল-মাসুনিয়া’র মত সংগঠনগুলো অতি ঘৃণিত পথে তাদের কার্যসিদ্ধি করে থাকে। বিভিন্ন ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে তারা মুসলিম নেতৃবৃন্দকে সেখানে দাওয়াত করে। সমাজের বড় বড় ব্যক্তি ও সরকারী উপরস্থ প্রতিনিধিগণই এতে উপস্থিত হয়। এ সকল সংগঠনের লক্ষ হল, ইসলামী দুনিয়ার বড় বড় ব্যক্তিত্বকে ঘায়েল করা এবং তাদের চরিত্রে কালিমা লেপন করা। দাওয়াত পেয়ে নেতৃবর্গ সম্বেলনে যোগ দেন। সেখানে মদ ও নারী দিয়ে তাদের কু-প্রবৃত্তি চাঙ্গা করে কোন রূপসীর সাথে অভিসারে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয় এবং তা ক্যামেরা বন্দী করে মূলতঃ তাদেরকে জিম্মি করে রাখা হয়। তারপর এসব ছবি বা ভিডিও ক্যাসেটকে পুঁজি করে শত্র“রা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার সুযোগে তারা মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত স্থানগুলোতে তাদের লোক নিয়োগের প্রস্তাব করে। যেমন, তারা বলে ঃ ‘আমাদের সুশিক্ষিত অমুক ব্যক্তিকে আপনার অমুক দপ্তরে নিয়োগ দিতে হবে এবং তার পদ হতে হবে সর্বোচ্চ। আমাদের এ প্রস্তাবে আপনি অসম্মত হলে আপনার এ ক্যাসেট আমরা সারা দুনিয়ায় প্রচার করে দিব। নেতার পক্ষে তখন ঐ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা সম্ভ হয় না। ফলে বাধ্য হয়েই তাকে তা মেনে নিতে হয়। অন্যথায় তার ইজ্জত সম্মান (?) সবই যে শেষ হয়ে যাবে!

অনুরূপভাবে নেতৃবৃন্দের জাতীয় অর্থ আত্মসাৎ, উৎকোচ গ্রহণ, দুর্নীতি প্রভৃতির প্রমাণ শত্র“দের হাতে থাকে, যার কারণে নেতৃবৃন্দ তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকেন। আর তাদের এ দুর্বলতার সুযোগে শত্র“রা তাদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সফল হয়।

কিন্তু মুসলিম নেতৃবৃন্দ যদি মদ ও নারীর হাতছানিতে আত্মভোলা না হতেন, ঘুষ ও উৎকোচ গ্রহণ করে, দুর্নীতিতে জড়িয়ে নিজেদের চরিত্রকে কলঙ্কিত না করতেন তাহলে তারা স্বাধীন ও পবিত্র ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে পারতেন। শত্র“রাও তাদের কার্যসিদ্ধিতে সফল হতে পারতো না এবং তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হতো না।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s