ইবাদতের ছয়টি মূলনীতি – আল-উসায়মীন

f5মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেনঃ ইবাদতের দিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তোমার পুরোপুরি অনুসরণ করতে পারবে না যতক্ষন না তোমাদের প্রতিটি ইবাদাত শরীয়াতের নিম্ন উল্লেখিত শর্তগুলো পূরণ না করেঃ

  • উদ্দেশ্যঃ যদি কেউ এমন ইবাদত করে যার উদ্দেশ্য শরিয়াহ সম্মত নয় তা বাতিল যোগ্য – এটি একটি বিদআত। এ ধরনের ইবাদতের একটি উদাহারণ হচ্ছে – রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে ইবাদত করা এই উদ্দেশ্য যে এই রাত্রিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উর্ধ্বে গমন করেছেন। তাহাজ্জুদ আধায় করা ইবাদাত। কিন্ত তাহাজ্জুদের সাথে উল্লেখিত উদ্দেশ্য থাকলে তা বিদআত হবে। কেননা এই ধরনের ইবাদত ভিত্তিহীন শরীয়াহ্ এর কোন অনুমোদন নেই। কোন ইবাদতের উদ্দেশ্য ও শরিয়া অনুমোদন প্রয়োজন – এই মূল্যবান মূলনীতিটি অনেক বিদআতকে চিহ্নিত করে যে সমস্ত ইবাদতকে  আমারা সুন্নাহর মনে করি কিন্ত প্রকৃতপক্ষে তা সুন্নাহ নয়।
  • প্রকৃতিঃ  প্রত্যেক ইবাদতের প্রকৃতি অবশ্য সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে। অতএব, কেউ এমন ইবাদত করল যা শরীয়া সম্মত নয় – তা বাতিল যোগ্য। যেমনঃ কেউ আল্লাহর জন্য ঘোড়া কোরবানী করল – তা গ্রহনযোগ্য হবে না, কেননা তা শরীয়া সম্মত না। সুতারাং গবাদি পশু, উট, গরু , মেশ এই সমস্ত প্রাণী ছাড়া কুরবানী কবুল করা হবে না।
  • পরিমাণঃ কেউ নামাজের রাকাতকে বৃদ্ধি করলে – আমরা এটাকে বিদআত বলি কারন এটি শরীয়া সম্মত নয়। কেউ জহুরের নামায পাঁচ রাকাত আদায় করলে তা কবুল হবে না।
  • পদ্ধতিঃ কেউ ওযু করার সময় পা আগে ধৌত করে, তারপর অন্যন্য অংশগুলো যথাযথভাবে সম্পূর্ণ করল  – এই ধরনের অযু গ্রহনযোগ্য নয় কারন এটি সুন্নাহর বিপরীত।
  • সময়ঃ কেউ জিলহজ্জ্ব মাসের প্রথম তারিখে যদি কোরবানি করে তাইলে তাঁর এই কোরবানি কবুল হবেনা কারনের এটি সময়ের দিক থেকে শরীয়ার পরিপন্থী। আমি শুনেছি অনেক লোকজন আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য রমযানে পশু কোরবানী করে। অতএব এই ধরনের ইবাদত এই পদ্ধতিতে বিদআত। কারন শরীয়া অনুযায়ী আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য পশু কোরবানী, দান/সাদকা এবং আকীকা ব্যাতিত আর কোন  ধরনের পদ্ধতি নেই। রমযানে পশু জবাইএর ক্ষেত্রে কেউ যদি ঈদুল-আযহার বা আল্লাহর উদ্দেশ্য কোরবানীর আশায় করে থাকে তাহলে এটি পরিতাজ্য।
  • স্থানঃ কেউ যদি মসজিদ ব্যাতিত অন্য কোন স্থানে ইতিকাফ পালন করে তবে তা গ্রহনযোগ্য নহে। কারন মসজিদ ব্যাতিত আর কোন স্থানে ইতিকাফ থাকা যাবে না। কোন মহিলা যদি তার নামাজের স্থানে (আপন গৃহে) ইতিকাফ পালন করতে চায় তা শরীয়া সম্মত নয়। এটি আর একটি উদাহারণ হচ্ছে – কেউ তাওয়াফ করতে গিয়ে অতিরিক্ত ভীড় থাকার কারনের অন্য কোন জায়গায় তাওয়াফ করতে চায় তাইলে তা গ্রহনযোগ্য নয়। কারন আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা বলেনঃ তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ। (২:১২৫)

অতএব, ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য দুইটি শর্ত পূরন করতে হবেঃ আল-ইখলাছ – শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তষ্টির উদ্দেশ্য ইবাদত করা এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে – আল-মুতাবাহ (সুন্নাহর অনুসরণ) – রাসুলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদত পালন করা।

Advertisements

One comment on “ইবাদতের ছয়টি মূলনীতি – আল-উসায়মীন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s