গ্যালারি

তাফসীর সূরা আত তাকাসুর -ড: আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং তাঁর সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সা) এর ওপর বর্ষিত হোক শান্তি ও কল্যাণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারাই সত্যের পথ অবলম্বন করবে তাদের ওপর (শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক)। রাসূলুল্লাহ (সা) এর প্রখ্যাত সাহাবী তারজুমানুল … বিস্তারিত পড়ুন

গ্যালারি

আমরা কিভাবে কুরআন বুঝব?-২

কুরআন অধ্যয়ন ও গবেষণার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত জরুরী। সতর্কতার অভাবে এক্ষেত্রে যথেষ্ট ভুল-ত্রুটি হয়ে যেতেপারে; কেননা অনেক সময় কুরআনের কোন বক্তব্যের সাধারণ অর্থ কেউ বুঝে থাকতে পারেন, অথচ ঐ বক্তব্য দ্বারা বিশেষ অর্থটিই উদ্দেশ্য, সাধারণ ও ব্যাপক অর্থ নয়। কখনো পাঠক বুঝে থাকতে পারেন এমন অর্থ যা বুঝানো কুরআনের উদ্ধেশ্য নয়। এমনটি সাহাবাগণের কারো কারো ক্ষেত্রে ঘটেছিল। […..]

আনুষাঙ্গিক বিষয়সমূহ:

বিস্তারিত পড়ুন

গ্যালারি

আমরা কিভাবে কুরআন বুঝব?-১

This gallery contains 1 photo.

আল-কুরআনুল কারীম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরন্তন মু‘জিযা, বিশ্ব মানবতার মুক্তিসনদ। আল্লাহ সুবহানাহু বলেন,

‘‘হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরসমূহে যা থাকে তার শিফা, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমাত। বল, ‘আল্লাহর অনুগ্রহে ও রহমাতে’। সুতরাং এ নিয়েই যেন তারা খুশী হয়। এটি যা তারা জমা করে তার চেয়ে উত্তম।”

এতে রয়েছে মানব জীবনের সকল দিক ও বিভাগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট হিদায়াত ও দিক-নির্দেশনা, রয়েছে আলোকবর্তিকা, উপদেশ, রহমত ও অন্তরের যাবতীয় ব্যাধির উপশম। কুরআন বুঝার বিভিন্ন পদ্ধতি ও তাফসীর অধ্যয়ণের ক্ষেত্রে যে সব বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি রাখা একান্ত জরুরী তা এ প্রবন্ধে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন

গ্যালারি

কুরআনে বর্ণিত কাহিনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ : কুরআনের কাছে ফিরে আসা

কুরআনের কাহিনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ:কুরআনে বহুস্থানে অতীতের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এই কাহিনীগুলোর ভিতর খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও উপদেশ বিদ্যমান। এই কাহিনীগুলো একবারে বর্ণিত হয়নি (সূরা ইউসুফ ব্যতীত), তাই একথা সুস্পষ্ট যে ইতিহাস বর্ণনা আল্লাহর উদ্দেশ্য নয় বরং এই কাহিনীগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের দিক নির্দেশনা দিতে চান। বিস্তারিত পড়ুন

কুরআন বুঝতে হলে

আমরা যারা কুরআন পড়তে, কুরআন থেকে শিক্ষা নিতে আগ্রহী তাদের শুধু কুরআনকে পড়লেই চলবেনা, এর যথাযথ অর্থও হৃদয়ংগম করতে হবে। আমাদের বর্তমান ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও বিশ্বব্যবস্থার (World Order) আলোকে কুরআনের বাণী কি শিক্ষা দেয় তা বুঝতে হবে। আমাদের মাঝে কুরআন তেলাওয়াত বহু লোকেই করে, কিন্তু অধিকাংশই বুঝে পড়েন না। আরো আশঙ্কাজনক ব্যাপার হচ্ছে এদের অনেকেই না বুঝে পড়েই তৃপ্ত। কিন্তু আল্লাহ যখন কুরআন পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন তখন কি না বুঝে পড়তে বলেছেন? কুরআন হাদীস থেকে না বুঝে পড়ার কোন নির্দেশ এসেছে? মানুষ যদি না বুঝেই পড়ে তবে কুরআনে এত জ্ঞানগর্ভ ভাষণের কিইবা দরকার ছিল? সারা কুরআন তো আলিফ, লাম, মীম এর মত হরফ (যার অর্থ আল্লাহই ভাল জানেন) দিয়ে ভরা থাকতে পারত। আমরা আগেই উল্লেখ করেছি কুরআন নাযিলের একটা কারণ হচ্ছে আল্লাহ চান আমরা তাঁর বাণীকে বুঝার চেষ্টা করি, তাঁর আয়াত নিয়ে চিন্তা করি। এখন এই বুঝার পথে অগ্রসর হবার আগে কয়েকটা ব্যাপার জানা থাকলে আমরা কুরআন পড়ে অনেক বেশি লাভবান হতে পারব। নচেৎ দেখা যাবে অর্থ বুঝে কুরআন পড়েও এর মূল বক্তব্য আমাদের কাছে অস্পষ্ট রয়ে যাবে অথবা মাঝপথেই আমরা উদ্যম হারিয়ে ফেলব।
কুরআন প্রাচীন কালের ইতিহাস বর্ণনাকারী কোন উপন্যাস নয়, এটি মানুষের জন্য পথনির্দেশ, এটি মানুষের চোখ খুলে দেয়। যারা কুরআনকে বুঝে পথ চলবে তারা পথ হারাবে না। এই কুরআনকে বুঝার জন্য আমাদের যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে তা হচ্ছে-

কুরআনের মূল লক্ষ্য:

কেউ যদি কুরআনের মূল লক্ষ্যগুলোকে সামনে না রেখে কুরআন পড়েন তবে তিনি সেই ব্যক্তির মত যিনি সবচেয়ে লেটেস্ট মডেলের কম্পিউটার কিনে শুধু গেমস্ খেলার জন্য একে ব্যবহার করেন। কোন বই পড়ে লাভবান হতে হলে একজনকে বইটির মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য মাথায় রাখতে হবে। ব্যক্তির উদ্দেশ্য ভেদে পড়ার ধরনও বিভিন্ন হয়। কেউ যদি শুধু বরকত লাভের আশায় কুরআন পড়েন তবে তিনি অর্থ বুঝার তোয়াক্কা না করে দ্রুত পড়ে যান। একজন মুসলিম যদি না বুঝে কুরআন পড়েন তাহলে খুব একটা লাভ হবেনা। এভাবে কুরআন পড়লে আল্লাহর বাণী একজনের উপর প্রভাব ফেলতে পারেনা। তাই আমাদের কুরআন অধ্যয়নকে অর্থবহ করতে কুরআনের নিম্নোক্ত মূল লক্ষ্যগুলো মাথায় রাখা দরকার-

  • ক) কুরআন আল্লাহর তাওহীদ শিক্ষা দেয়: মানবমন সবসময় তার স্রষ্টাকে জানতে চায়। কুরআন মানুষকে সেই স্রষ্টা, তাঁর নির্দেশাবলী ও তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে জানায়। কুরআনের এই শিক্ষা থেকে মানুষ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় নুয়ে পড়ে ও আরো বেশি করে আল্লাহকে ভালোবাসতে শুরু করে। আল্লাহ যদি তাঁর সম্পর্কে না জানাতেন তবে মানুষের পক্ষে আন্দাজ অনুমান করে কখনই আল্লাহর প্রকৃত পরিচয় পাওয়া সম্ভব হতনা। তাই কেউ যখন কুরআন পড়ে তখন তার বুঝা উচিত সে তার স্রষ্টা ও প্রতিপালক সম্পর্কে পড়ছে। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর এক সাহাবীকে প্রশ্ন করেছিলেন,‘তুমি কি জানো কুরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে সেরা?’ সাহাবী সঠিক উত্তর দিয়েছিলেন- সেই আয়াতটি হচ্ছে আয়াতুল কুরসী।

    “আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারেনা এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে (পৃথিবী) কিংবা পেছনে (আখিরাত) যা কিছু রয়েছে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারেনা, যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। তাঁর কুরসি সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।” (সূরা বাকারা, ২:২৫৫)

    কুরআনের সেরা আয়াতটি পুরোটাই আল্লাহর মহত্ত্বের বর্ণনা। এ থেকে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে আল্লাহ তাআলার নিজের স্বরূপ সম্পর্কে জানানোই কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সূরা ইখলাসকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ বলা হয়েছে, এই সূরাও আল্লাহর বর্ণনা। এই বর্ণনাগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি ইবাদত শুধু আল্লাহরই জন্য। তাই এখন থেকে আমরা আল্লাহর গুণবাচক আয়াত পড়ার সময় স্মরণ রাখব যে এগুলো বুঝা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • খ) কুরআন সঠিক পথ দেখায়: আল্লাহর নাম, গুণাবলী জানার পর যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উপায় জানা। আমরা প্রতি নামাযের প্রতি রাকাতে আল্লাহর কাছে একটা মূল্যবান বস্তু চাই:

    “আমাদের সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাজিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।” (সূরা ফাতিহা, ১:৫-৭)।

    আল্লাহ আমাদের এ ডাকে সাড়া দিয়ে সূরা বাকারার শুরুতেই বলেছেন,

    “এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই, পথ প্রদর্শনকারী মুত্তাকীদের জন্য।” (সূরা বাকারা ২:২)

    অর্থাৎ মুত্তাকীদের জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কুরআন দিক নির্দেশনা দেয়। রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাহও এই দিক নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত কেননা কুরআনেই সুন্নাহর অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এভাবে কুরআন পড়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারব কিভাবে কোন পথে গেলে আল্লাহ আমাদের উপর খুশি হবেন। আল্লাহকে খুশি করতে পারলেই দুনিয়া ও আখেরাতে আমরা নিশ্চিন্ত হতে পারি। কেয়ামত পর্যন্ত কুরআন মুসলিমদের সরল পথ দেখাবে, আমাদের তাই সরল পথের সন্ধানে কুরআনের কাছে ধর্ণা দিতে হবে।

  • গ) কুরআন ব্যক্তিসত্তাকে পরিশুদ্ধ করতে চায়: কুরআন শুধুমাত্র একটি বিধিবিধানের গ্রন্থ নয়, এটি এমন একটি গ্রন্থ যা একজন মানুষের চরিত্র গড়ে তোলে। কুরআন শুধু আমাদের সঠিক পথের জ্ঞানই (ইল্ম) দেয়না বরং সেই সঠিক কাজ করার জন্য ভীতি, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধও (তাকওয়া) ঢেলে দেয়। কুরআনে নানাভাবে এই উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে; যেমন আল্লাহ মানুষের কাছে এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর স্বরূপ বর্ণনা করেছেন, পৃথিবীর আনন্দের সাথে জান্নাতের পার্থক্য দেখিয়েছেন, তিনি আরও বর্ণনা করেছেন বিচার দিবসে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের পরিণাম। কুরআনে প্রায় প্রতিটি বিধান বর্ণনার শেষে আল্লাহর স্মরণ, অনুগতদের জন্য পুরষ্কারের প্রতিশ্রুতি এবং অবাধ্যদের জন্য শাস্তির প্রতিজ্ঞা করা হয়েছে। এই ইলম এবং তাকওয়া একসাথে বর্ণনার অসংখ্য উদাহরণ আছে, যেমন সূরা বাকারায় ২২১-২৪২ আয়াত পর্যন্ত বারোটি ভিন্ন ধরনের বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিটি বিধানের পর পরই আল্লাহ তাঁর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তাঁকে ভয় করার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।
    আল্লাহ কেন ‘ইলমের’ সাথে ‘তাকওয়া’ জুড়ে দিলেন? এর কারণ হচ্ছে শুধু ভাল-মন্দের বা সঠিক-বেঠিকের জ্ঞানই মানুষকে সঠিক পথে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়, এর জন্য চাই অন্তেরর তাগিদ। এর বাস্তব উদাহরণ পশ্চিমা বিশ্বে দেখা যায় — পশ্চিমারা জানে ধূমপান, মদ্যপান, নেশাদ্রব্য ক্ষতিকর কিন্তু তবুও তাদের কয়জন এসব থেকে দূরে থাকার প্রেরণা পায়? এজন্য কুরআন পড়ার সময় এই তাকওয়ার বাণীগুলো আমাদের হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করতে হবে।
  • ঘ) কুরআন ইসলামী সমাজ তৈরির কথা বলে: কুরআন মানুষকে বৃহত্তর সমাজের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে, কুরআনে এসেছে সামাজিক দায়িত্ব, সামাজিক অধিকার, পারস্পারিক সমঝোতার নির্দেশ।

    “হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দুজন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট [তোমাদের অধিকার] চেয়ে থাক এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন।” (সূরা নিসা ৪:১)

    কুরআন আল্লাহর সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনায় পরিচালিত এক অনন্য সমাজ গড়তে বলে। ধর্মবিমুখ সমাজ থেকে তা আলাদা। ইসলামী সমাজ ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজে বাধা দেবে।

    “তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।” (সূরা আলে ইমরান, ৩:১১০)

    কুরআনের সমাজ ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারকে প্রশ্রয় দেয়না, এখানের সদস্যরা একত্রে মন্দকে দূর করে ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে। এই চিন্তাধারা পশ্চিমাদের থেকে ভিন্ন। সেখানে কেউ সমাজের তোয়াক্কা না করে নিন্দনীয় কাজে লিপ্ত থাকতে পারে, সমাজ সেসব দেখেও না দেখার ভান করে। এজন্য একজন যখন কুরআন পড়ে, তার অবশ্যই বুঝা উচিত কুরআন তাকে সমাজ তথা গোটা মানবজাতির সদস্য হিসেবে তার কর্তব্য ও অধিকার প্রদর্শন করছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুরআন অধ্যয়ন করলে প্রতিটি মুসলিমই নিজ জাতি ও পৃথিবীর জন্য উপকারী বলে প্রতীয়মান হবে।

  • ঙ) কুরআন মুসলিমদের প্রতিপক্ষ চিনিয়ে দেয়: ইসলামের প্রসার একটি আদর্শগত বিপ্লবের মত যা সকল জাহিলিয়াতের শিকড় উপড়ে ফেলে। এই পরিবর্তন করতে গিয়ে বাধা আসবে। ভ্রান্ত পথে পরিচালিত বিলাসী শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতার পরিবর্তন চাইবেনা। সাইয়েদ কুতুবের মতে ইতিহাস শিক্ষা দেয় জাহিলি সমাজ শান্তি চায়না, তারা যুদ্ধের পথ বেছে নেয়। এই সংঘাতে আল্লাহ মুসলিমদের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, তিনি জানিয়েছেন কিভাবে শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তি অর্জন করতে হয়, সংঘাতের সময় কি নীতি অবলম্বন করতে হয়। মুসলিমদের সবচেয়ে বড় শত্রু শয়তান। তার থেকে আত্মরক্ষার জন্য আল্লাহ শিখিয়ে দিয়েছেন,

    “যদি শয়তানের পক্ষ থেকে আপনি কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব করেন, তবে আল্লাহর শরণাপন্নব হোন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (সূরা ফুসসিলাত, ৪১:৩৬)

    মুসলিমদের আরো শত্রু আছে, তাদের আল্লাহ পরিষ্কার ভাবে চিনিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন অবিশ্বাসীরা, মুশরিক, ইহুদি ও খ্রীস্টানরা কিভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মুসলিমদের আভ্যন্তরীণ শত্রু মুনাফিকদের ব্যাপারেও আল্লাহ দীর্ঘ বর্ণনা দিয়েছেন (যেমন সূরা মুনাফিকুন)। আল্লাহ আরও এক শত্রুর কথা জানিয়েছেন, যাকে তিনি না চিনিয়ে দিলে মানুষ বুঝতে পারতোনা – সে হচ্ছে নিজ নফ্স।

    “যারা নিজ নফসের লালসা থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।” (সূরা আল হাশর, ৫৯:৯)

    মুসলিমদের কুরআন পাঠ করার সময় তাই খেয়াল রাখতে হবে আল্লাহ তাকে সত্যিকারের শত্রুদের ব্যাপারে সর্তক করছেন, এই শত্রুরা তাকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করছে। শত্রুদের আচরণ ও কিভাবে আত্মরক্ষা করা যায় সে সম্পর্কে কুরআনের আয়াতগুলো মনে গেঁথে নেয়া প্রয়োজন। উপরে আলোচিত কুরআনের লক্ষ্যগুলো মূলত একটি লক্ষ্য থেকে উৎসারিত, আর তা হচ্ছে এক আল্লাহকে বিশ্বাস (তাওহীদ)। এক আল্লাহকে শুধু স্রষ্টা হিসেবে মানাই যথেষ্ট না, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে নেয়াও তাওহীদের অংশ।

গ্যালারি

কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য এবং কুরআন পাঠে আমাদের আচরন

আমরা আরবী ভাষায় কুরআন পড়ি কিন্তু অধিকাংশই এর অর্থ বুঝিনা। পৃথিবীর আর কোন বই আমরা না বুঝে পড়তে রাজি নই কিন্তু কুরআন না বুঝে পড়েও আমরা আত্মতৃপ্তি পাই, কেননা তেলাওয়াতের সওয়াবটাই আমাদের কাছে মুখ্য, আল্লাহ আমাদের কি করতে বললেন আর কি ছাড়তে বললেন তা মুখ্য না। এর ফলে আমরা শিক্ষিত হয়েও আজ ইসলামের দৃষ্টিতে চরম মূর্খ। বিস্তারিত পড়ুন